দেশ

India GDP: ভারতের অর্থনীতিতে ‘সুপার বুস্ট’! ফিচ রেটিংসে বড় চমক, আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস

মূলত উৎপাদন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রগুলির শক্তিশালী বৃদ্ধির কারণেই এই গতি এসেছে।

Truth of Bengal: বৈশ্বিক রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস (Fitch Ratings) বর্তমান অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬ (FY26) এর জন্য ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৪ শতাংশ করেছে। এই ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন মূলত শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সম্প্রতি কার্যকর হওয়া জিএসটি (GST) সংস্কারের ফলস্বরূপ ভোগব্যয় বৃদ্ধির উন্নত সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রকে প্রতিফলিত করে। এই উন্নত পূর্বাভাসটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সরকারি তথ্য দেখিয়েছে যে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (Q2 FY26) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) ৬টি ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত উৎপাদন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রগুলির শক্তিশালী বৃদ্ধির কারণেই এই গতি এসেছে। ফিচ জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির পর জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হয়ে ৮.২ শতাংশে পৌঁছেছিল।

ফিচের ডিসেম্বরের গ্লোবাল ইকোনমিক আউটলুক (Global Economic Outlook) রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এর বাকি সময়ে বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমলেও, পুরো বছরের জন্য তাদের পূর্বাভাস সেপ্টেম্বরের ৬.৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৪ শতাংশ করা হয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, এই বছর ব্যক্তিগত ভোক্তা ব্যয়ই (private consumer spending) বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি, যা মজবুত প্রকৃত আয়ের গতিশীলতা, উন্নত গ্রাহক মনোভাব এবং সম্প্রতি কার্যকর হওয়া পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) সংস্কারের প্রভাব দ্বারা সমর্থিত। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ৩৭৫টি পণ্যের উপর জিএসটি কমানো হয়েছে, যার ফলে ৯৯ শতাংশেরও বেশি ভোগ্যপণ্য সস্তা হয়েছে।

ফিচ রেটিংস জানিয়েছে যে, অক্টোবরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি (consumer price inflation) খাদ্য ও পানীয়ের দাম কমার কারণে সর্বকালের সর্বনিম্ন ০.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এই নিম্নমুখী মুদ্রাস্ফীতির কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ডিসেম্বরে নীতিগত সুদের হার (policy rate) আরও একবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.২৫ শতাংশ করার সুযোগ পাবে। ফিচ যোগ করেছে যে, ২০২৫ সালে ইতিমধ্যে ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়েছে এবং তার সাথে ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (cash reserve ratio) ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। আর শুক্রবারই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি কমিটি তাদের নীতি পর্যালোচনা ঘোষণা করতে চলেছে। তবে, মূল মুদ্রাস্ফীতি (core inflation) পুনরুদ্ধার হওয়ায় এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ শক্তিশালী থাকার কারণে ফিচ আশা করে যে, আরবিআই তাদের মুদ্রানীতি সহজ করার প্রক্রিয়াটি প্রায় শেষ করে ফেলেছে এবং আগামী দুই বছর সুদের হার ৫.২৫ শতাংশেই স্থির থাকবে।

ফিচ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে (FY27) জিডিপি বৃদ্ধির গতি কমে ৬.৪ শতাংশ হবে বলে অনুমান করেছে। তারা আশা করছে যে, আর্থিক পরিস্থিতি শিথিল হওয়ার সাথে সাথে পরবর্তী অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে (২০২৬-২৭) বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। তবে, এজেন্সিটি সতর্ক করেছে যে, ২০২৭-২৮ (FY28) অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধি আরও কমে ৬.২ শতাংশে নামতে পারে, কারণ অভ্যন্তরীণ চাহিদার সামান্য উন্নতি হলেও উচ্চ আমদানি তা প্রশমিত করবে। ফিচ আরও উল্লেখ করেছে যে, ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার রফতানির উপর প্রায় ৩৫ শতাংশ ‘কার্যকর শুল্ক হার’ (ETR) দিতে হয়, যা বিশ্বের সর্বোচ্চগুলির মধ্যে একটি। সংস্থাটি মনে করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি যদি এই কার্যকর শুল্ক হার হ্রাস করে, তবে তা ভারতের ‘বহির্দেশীয় চাহিদা’ (external demand) বাড়াতে সহায়তা করবে।

Related Articles