আন্তর্জাতিক

ওভাল অফিসে ট্রাম্প–মামদানি, তিক্ততা পেরিয়ে হাসির মুহূর্ত ভাইরাল

উত্তর দেওয়ার আগেই ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলে ওঠেন, ঠিক আছে, বলতে পারেন। এতে আমার আপত্তি নেই।

Truth Of Bengal: বরাবরই তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রাজনৈতিক ময়দানে তারা ছিলেন অন্য মেরুতে। তবে নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওভাল অফিসের বৈঠকে দেখা গেল এক অন্য দৃশ্য। শুক্রবার ওভাল ওফিসে দুই নেতার বৈঠকের পরে ট্রাম্পের দাবি, ‘দুর্দান্ত ও ফলপ্রসূ বৈঠক’। সেইসঙ্গে মামদানি জানান—এটি ছিল জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা গড়ে তোলার একটি প্রচেষ্টা।বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে এক সাংবাদিক মামদানির পুরোনো ‘ফ্যাসিস্ট’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেন। উত্তর দেওয়ার আগেই ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলে ওঠেন, ঠিক আছে, বলতে পারেন। এতে আমার আপত্তি নেই।

এর চেয়েও খারাপ অনেক কথা আমি শুনেছি। বলতে বলতে তিনি মামদানির হাতে হালকা খোঁচাও দেন। মুহূর্তটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্স-এ লিখেছেন, এটা প্রেসিডেন্টের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি।গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প মামদানির নীতি ও মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নির্বাচন শুরুর আগে নিউ ইয়র্কবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন—মামদানির জয় ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়’ ডেকে আনবে। বিপুল ভোটে জেতার পরই মামদানি পালটা কটাক্ষ করেন ট্রাম্পকে, আরও জোরে চিৎকার করুন।এমন প্রেক্ষাপটে দুই নেতার বৈঠক ঘিরে জল্পনা ছিল তুঙ্গে।

বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক চাপে ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে। আলোচনায় ছিল অভিবাসী বিতাড়ন প্রসঙ্গও। মামদানি জানান, এই বৈঠক রাজনৈতিক বিরোধিতা নিয়ে নয়, জনগণের সেবা করার জন্য আমাদের ভূমিকা স্পষ্ট করার জন্য। মেয়রের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি যত ভাল করবেন, আমি ততই খুশি হব। তাঁর পরামর্শ মামদানি যেন আরও নমনীয় হন। জানান, সরকারি পদে আসার পর তাঁর নিজেরও বহু বিষয়ে ভাবনার পরিবর্তন এসেছে।মামদানিও বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেন।দু’জনের সম্পর্ক যতটাই তিক্ত ছিল, প্রথম বৈঠক ততটাই ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন উভয়েই।

Related Articles