ওপার বাংলা

ইউনুস সরকারের কড়া পদক্ষের, আওয়ামী লিগের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ইঙ্গিত

চলতি বছরের ১২ মে ইউনুস সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, যদিও দলটিকে আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি।

Truth Of Bengal: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর এবার আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত করার পথে এগোচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট, ১৯৭৩–এর কয়েকটি বিধি ইতিমধ্যেই সংশোধন করা হয়েছে, ফলে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে এখন আর কোনও আইনি বাধা রইল না।

চলতি বছরের ১২ মে ইউনুস সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, যদিও দলটিকে আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। এবার সেই প্রক্রিয়াই শুরু হয়েছে। ঢাকার রাজনৈতিক মহল মনে করছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করতে পারে। পাশাপাশি, ট্রাইব্যুনালের কোনও বিচারপতিও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করতে পারেন।

সোমবার শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালত সরাসরি অভিযোগ তোলে—আওয়ামী লিগ বহু বছর ধরেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যকেও আদালত মানবতা-বিরোধী অপরাধকে উসকে দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে। আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের সশস্ত্র ভূমিকার কথাও আদালত তুলে ধরে। ওবায়দুল কাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও আদালত তার বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করেই আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হতে পারে। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে কোনও বাধা নেই।

বাংলাদেশে আগে কখনও কোনও রাজনৈতিক দলকে অর্গানাইজড ক্রাইমের ভিত্তিতে বিচারের কাঠগড়ায় তোলা হয়নি। তবে ভারতেই এখন আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে দলগত দুর্নীতিতে জড়িত থাকার মামলা বিচারাধীন—এই উদাহরণ সামনে রেখেই এই উদ্যোগে উৎসাহ পাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আওয়ামী লিগকে বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি হাসিনা মামলায় সাক্ষ্যও দিয়েছেন। তার দাবি, শেখ হাসিনার নির্দেশে মানবতা-বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হলেও দলগত অংশগ্রহণ ছাড়া তা সম্ভব ছিল না—তাই দলের বিচারও প্রয়োজন।

আগে কোনও আইনে দল নিষিদ্ধ করার বিধান না থাকায় সরকারের তরফে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন দলের নিবন্ধন বাতিল করে। কিন্তু দলকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট অর্ডিন্যান্সে স্বাক্ষর করেছেন।

সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, নাহিদের এই প্রস্তাব আসলে ইউনুস সরকারের পরিকল্পনারই অংশ। চিফ প্রসিকিউটরও তাত্ক্ষণিকভাবে বিষয়টি সমর্থন করেন। নাহিদ বা তার দলের কোনও নেতা শিগগিরই মামলা করতে পারেন। পাশাপাশি বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

হাসিনা ও কামালের মামলার রায়ে তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে সেই অর্থ ব্যবহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, আওয়ামী লিগের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাই সরকারের পরবর্তী লক্ষ্য বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে।