আন্তর্জাতিক

Islamabad Car Explosion: লালকেল্লা কাণ্ডের পর ইসলামাবাদেও গাড়ি বিস্ফোরণ, কোর্ট চত্বরে আগুন, আহত বহু

প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, বিস্ফোরণে ন'জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পিআইএমএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

Truth of Bengal: দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ গাড়ি বোমার বিস্ফোরণের ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই এবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদ কেঁপে উঠল আর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে। ইসলামাবাদের জেলা আদালত চত্বরের বাইরে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে ইসলামাবাদের কোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি হঠাৎ বিস্ফোরণে উড়ে যায়। এই ঘটনায় পথচলতি বহু মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, বিস্ফোরণে ন’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পিআইএমএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি যদিও দাবি করছে যে কোর্ট চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে এর সুস্পষ্ট কারণ বা কারা জড়িত, তা এখনও পুলিশ নিশ্চিত করেনি। এই ঘটনার পর ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বম্ব স্কোয়াড ও ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। পাকিস্তানের এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, তারা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ নাকি অন্য কিছু, তা খতিয়ে দেখছেন। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এরপর একাধিক গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২০ জন। এই বিস্ফোরণের পর কলকাতা, মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ, বিহার-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

দিল্লি বিস্ফোরণের পর ইসলামাবাদও তাদের আকাশ সীমায় হাই অ্যালার্ট জারি করেছিল। পাকিস্তানের স্থল, বায়ু ও নৌসেনাকেও বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিল সেদেশের সরকার। এই দুটি ঘটনার সময়গত নৈকট্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দিল্লি বিস্ফোরণের জেরে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনে আজও পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। ঐতিহাসিক লালকেল্লাও আগামী তিন দিনের জন্য পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকবে। সোমবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আহতদের সঙ্গে দেখা করার পর আজ সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাসভবনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর, এনআইএ-এর ডিরেক্টর জেনারেল এবং দিল্লি পুলিশ কমিশনার উপস্থিত রয়েছেন। ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের ডিজিপি।

মঙ্গলবার সকালে ভুটানের থিম্পু থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে আছে এবং তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, “আমাদের এজেন্সি এর পূর্ণ তদন্ত করবে। এর পিছনে যাদের ষড়যন্ত্র আছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই ঘটনার দ্রুত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। তিনি জাতিকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে এই ট্র্যাজেডির জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।

Related Articles