India-Autralia: চুতর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অজি বধ টিম ইন্ডিয়ার
১৩ ওভারেই এই জুটি ভারতকে পৌঁছে দেয় শতরানের ঘরে।
Truth of Bengal: বৃহস্পতিবার চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। এদিনের ম্যাচ ছিল সিরিজ জয়ের জন্য দুই দলের কাছেই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই উইনিং কম্বিনেশন না ভেঙে আগের ম্যাচের দল এই ম্যাচেও নামিয়েছিলেন মেন-ইন-ব্লুজ কোচ গৌতম গম্ভীর।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শ। কিন্তু তিনি ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারেননি ম্যাচের ফল এইরকম হতে পারে। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে যে ভাল কিছু তাঁর দলের হবে না সেই ইঙ্গিতটা বুঝি মার্শ পেয়ে গিয়েছিলেন ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই। যখন অভিষেকের সহজ ক্যাচটি ফেলে দেন জ্যাভিয়ার। তারপরই হাত খোলা শুরু করেন টিম ইন্ডিয়ার দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সহ অধিনায়ক শুভমন গিল। পাওয়ার প্লে ওভারে ৪৯ রান তুললেও তারপর অবশ্য বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি অভিষেক। ব্যক্তিগত ২৮ রানের মাথায় অ্যাডাম জাম্পার বলে দ্বিতীয় ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই নিজের উইকেট ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক। তাঁর এত কিসের তারা ছিল তা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
অভিষেক প্যাভেলিয়নে ফিরে যেতে শুভমনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শিভম দুবে। সেই সম রানের গতি কিছুটা মন্থরও হয়ে পড়ে। এরপর দলের রান যখন ৮৮ তখন তখন ভারতের দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয়। ব্যক্তিগত ২২ রানের মাথায় নেথান এলিসের বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন শিভম। এরপরই অধিনায়ক আর সহ অধিনায়ক জুটি দলকে টেনে তুলতে থাকেন।
১৩ ওভারেই এই জুটি ভারতকে পৌঁছে দেয় শতরানের ঘরে। এবং দলকে শতরানের ঘরে নিয়ে যায় সূর্যকুমার যাদবের দুটি ওভার বাউন্ডারি। এদিকে সবাই যখন শুভমনের ব্যাট থেকে আরও ভাল একটা ইনিংসের জন্য অপেক্ষা করছেন, ঠিক সেই সময় অর্ধ্বশত রান থেকে মাত্র ৪ রান দূরে (৪৬) থেকেই সেই এলিসের বলেই লাইন লেংথ মিস করার খেসারত দিয়ে নিজের উইকেট খুইয়ে সাজঘরে ফিরলেন পঞ্জাব কা পুত্তর। শুভমনের পর স্কোরবোর্ডে ১২৫ রান ওঠার পরেই বড় শর্ট খেলতে গিয়ে বার্টলেটের বলে ডেভিডের হাতে ধরা পড়েন স্কাই।
এরপরই টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইন আপে ধ্বস নামান অজি বোলাররা। তিলক ভার্মা থেকে শুরু করে জীতেশ শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দররা আয়ারাম আর গয়ারামের মত নিজেদের উইকেট উপহার দিলেন। যা দেখে একটা সময় মনে হচ্ছিল ভারত বুঝি দেড়শো রানের গণ্ডিও পার করতে পারবে না। কিন্তু শেষ বেলায় অক্ষরের মূল্যবান ২১ রানের জবাবে ভারত ১৬৭ রান করে।
১৬৮ রানের টার্গেট হাতে পেয়েই শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে শুরু করে মার্শ বাহিনী। আর এটাই বিপদ ডেকে আনল তাঁদের। অজি শিবিরে প্রথম ধাক্কাটা দিলেন অক্ষর। দলের ৩৭ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২৫ রানে অক্ষরের বলে এলবিডব্লু হন শর্ট। এরপর বরুণের বলে ক্যাচ তুলেও জীবন ফিরে পান অজি অধিনায় মার্শ। না হলে আরও আগেই দুই উইকেট হারাত অস্ট্রেলিয়া। অবশ্য এরপরও বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি অজি অধিনায়ক। তবে তাঁর আউট হওয়ার আগে ফের অজি শিবিরে ধাক্কা দেন অক্ষর। এবার ইংলিশকে বোল্ড করেন তিনি।
ইংলিশ ফিরে যেতেই পরের ওভারে বল হাতে পেয়েই মার্শকে ফেরান তিলক। দলীয় ৭০ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া তখন যেন ঘোর বিপদের সামনে। তারপর আগের ব্যাটারদের মতই চালিয়ে খেলতে থাকেন টিম ডেভিডও। কিন্তু তিনিও স্থায়ী হলেন না ক্রিজে। ব্যক্তিগত ১৪ ও দলীয় ৯১ রানেই চার উইকেট পড়ে যাওয়ায় আরও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
এরপর অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন স্টেইনস ও ফিলিপে। হলে কি হবে, ভারতীয় বোলারদের দাপটে তাঁরাও টিকতে পারলেন না বেশিক্ষণ। ফিলিপে (১০) ও স্টেইনস (১৭) রান করে ফিরে যেতেই ধ্বস নামে অজি ব্যাটিংয়ে লাইনআপে। সেখান থেকে আর অজিরা ম্যাচে ফিরতে পারলেন না। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্কাই ব্রিগেড।






