রিচার বিশ্বকাপ জয়ে গর্বে আনন্দে ভাসছেন মানবেন্দ্রবাবু ও শিবশঙ্কর
মঙ্গলবার বিকেলে যখন মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তখনও তিনি বেশ নস্টালজিক মেয়ের সাফল্যে।
Truth Of Bengal: সুদীপ্ত ভট্টাচার্য: গত রবিবার। নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়াম দেখেছিল ভারতীয় মহিলা ব্রিগেডের দুরন্ত বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাস। হরমনপ্রীতদের সঙ্গে সেই দলের অন্যতম সদস্যা ছিলেন এই বঙ্গের এক কন্যা রিচা ঘোষ। বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মেয়ের জয়োচ্ছ্বাস স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে দেখছিলেন রিচার বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ ও তাঁর মা। মেয়ে রিচার সাফল্যে তখন নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলেন মানবেন্দ্রবাবু ও তাঁর সহধর্মিনী।

মঙ্গলবার বিকেলে যখন মানবেন্দ্রবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তখনও তিনি বেশ নস্টালজিক মেয়ের সাফল্যে। স্টেডিয়ামে বসে বাবা হিসেবে তাঁর অনুভূতির প্রসঙ্গ তুলতেই মানবেন্দ্রবাবুর স্পষ্টভাবে বলেন, ‘মেয়ে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করছে, আর বাবা হিসেবে আমি গ্যালারিতে বসে সেই দৃশ্য উপভোগ করছি, এর অনুভূতি কখনও ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল সেদিনের সেই ছোট্ট রিচার ব্যাট হাতে খেলার মুহূর্তগুলি। ভাবতেই পারিনি, আজ ও দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করেছে।’

রিচার ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসার কথা বলতে গিয়ে মানবেন্দ্রবাবু ফিরে যাচ্ছিলেন রিচার শৈশব জীবনের স্মৃতিগুলিতে। বলছিলেন, ‘আমি যেহেতু অল্পবিস্তর খেলাধুলো করেছি, সেই কারণে মাঠে আমাকে যেতেই হয়। তখন থেকেই রিচা আমার সঙ্গী। মাঠে গিয়ে দেখতাম ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে ওর দাপাদাপি। কি সুন্দরভাবে ব্যাট দিয়ে স্ট্রোক করত। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আজকের রিচা হয়ে ওঠা। ওই সময় থেকেই রিচার খেলাধুলোয় সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ছিলাম আমি। যে কোনও ভাবে আমাকে হারানোটাই ছিল ওর একমাত্র লক্ষ্য। ক্রিকেটের সঙ্গে ওর এমন ভালবাসা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম আমরা সবাই। এবং সেই রিচাই আজ শুধু আমাদের পরিবার নয়, গোটা বাঙালিদের উদ্বুদ্ধ করেছে। রিচার এমন সাফল্যের অংশীদার আর একজন। তিনি হলেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং বর্তমান বোলিং কোচ শিবশঙ্কর পাল।’
বাংলার বর্তমান কোচ শিবশঙ্কর পালের সঙ্গে রিচার সম্পর্ক আজ আর কারোর অজানা নয়। উত্তরবঙ্গের ছোট্ট মেয়েটা যখন দুচোখে বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই তিলত্তমার বুকে এসেছিলেন, তখন থেকেই রিচার পাশে অভিভাবকের মত দাঁড়িয়েছিলেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর।
নিজে দীর্ঘদিন চুটিয়ে বাংলার হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন থাকলেও সেই স্বপ্ন তাঁর (ম্যাকোর, শিবশঙ্করের) পূরণ হয়নি। সে কারণে রিচা জাতীয় দলে খেলে সাফল্য পাক মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন ম্যাকো। এবার রিচা বিশ্বকাপ জয় করেছে। কাজেই আনন্দে মনের ভাব ব্যক্ত করতে গিয়ে শিবশঙ্কর বলেন, ‘রিচার এমন সাফল্যে আমার আনন্দের ভাষা নেই। ওকে আমি আমার মেয়ের মত ভালবাসি। আজও আমার সঙ্গে শুধু নয়, আমার পরিবারের সকলেই দারুণ খুশি। আমার ছেলে ও মেয়ে (পিংক ও বেবস) আনন্দে আত্মহারা। ওদের রিচা দিদি আজ বিশ্ব জয় করেছে বলে কথা! এখনও রিচা বাড়িতে এলে আমার ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে যেভাবে খুনসুঁটিতে মেতে ওঠে তা না দেখলে ভাবাই যাবে না।’
রিচার এই সাফল্যেও আর একজনের অবদান রয়েছে বলেও জানান ম্যাকো। বললেন, আমাদের মত, রিচার আজকের এমন সাফল্যের জন্য মহাদেব দত্তের অবদানও অস্বীকার করা যাবে না।






