রাজ্যের খবর

পানিহাটিতে ফের চাঁদার “জুলুম”, কাঠগড়ায় যুব নেতা

মিলনের অভিযোগ, কালীপুজোর জন্য তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।

Truth Of Bengal: পানিহাটিতে ফের চাঁদার জুলুমের অভিযোগ। কালীপুজোর চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে রীতিমতো আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আনন্দনগর এলাকায়। অভিযোগ, স্থানীয় এক যুব তৃণমূল নেতা ও তাঁর দলবল ২ হাজার টাকার চাঁদা দাবি করে না পেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে। রাজমিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালান পানিহাটির আনন্দনগরের বাসিন্দা মিলন মণ্ডল। ভাড়ার ঘরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে থাকেন তিনি। মিলনের অভিযোগ, কালীপুজোর জন্য তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি পুরো টাকা দিতে না পারায় তৃণমূল যুব নেতা অর্জুন চক্রবর্তী ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়।

মিলন মণ্ডলের কথায়, “বাড়িওয়ালা আমাকে ফোন করে বলে দাদা তুমি ৫০০ টাকা দিয়ে দিও। আমি ৫০০ দেব। আমার ছেলে এরপরই ৫০০ টাকা দিয়েও দেয়। কিন্তু তারপরই শুরু হয় অত্যাচার। দরজা ভেঙেছে, গাড়ি ভেঙেছে।”

শুধু তাই নয়, মিলন ও তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মণ্ডলের অভিযোগ, তাঁদের বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। রিঙ্কু মণ্ডল জানান, “আমরা বের হলে হয়তো আমাদের খুনই করে দিত। গালাগালির সঙ্গে হুমকি দিতে থাকে। বলে এখনই বেরিয়ে আয়। না বেরলে তোর অবস্থা খারাপ দেব।”

তবে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অভিযুক্ত যুব নেতা অর্জুন চক্রবর্তী ঘটনার দিন এলাকায় ছিলেন না। বরং ওই দম্পতির বিরুদ্ধেই এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ রয়েছে।

পানিহাটি পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুভাষ চক্রবর্তী বলেন, “ওই বাড়ির বিরুদ্ধে এলাকার লোকজনের অভিযোগ রয়েছে। ওখানে জুয়া খেলা, মদ খাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। বহু রকম বাজে কাজ হয়। অভিযোগ অনেকদিন থেকেই।”

তবে মিলন ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দোষীদের আড়াল করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় ঘোলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু অভিযুক্তরা এখনও অধরা।

এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য — “চাঁদার নামে দাদাগিরি আর বরদাস্ত নয়।” পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Related Articles