কলকাতা

Kolkata Police: কালীপুজোয় বাজি পোড়ানোর সময় বেঁধে দিল কলকাতা পুলিশ! নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তি

এই নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার কালীপুজো ও দিওয়ালিতে সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র রাত ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে বাজি পোড়াতে পারবেন।

Truth of Bengal: কালীপুজো এবং দীপাবলিতে দূষণ রোধ করতে শব্দবাজি পোড়ানো বন্ধ করাই কলকাতা পুলিশের কাছে বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিমধ্যে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নজরদারি বৃদ্ধি এবং বাজি পোড়ানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। এই নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার কালীপুজো ও দিওয়ালিতে সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র রাত ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে বাজি পোড়াতে পারবেন। এছাড়াও, আগামী ২৮ অক্টোবর ছটপুজোয় বাজি পোড়ানোর সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কেউ বাজি পোড়ালে তাঁকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

কলকাতা পুলিশ সুপ্রিম কোর্ট, কলকাতা হাই কোর্ট এবং রাজ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য প্রতিটি থানার অফিসার ইন চার্জকে নির্দেশ দিয়েছে। দীপাবলির ঠিক আগে থেকেই ফানুস ও নিষিদ্ধ বাজির দাপটে লাগাম টানতে সারা রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশের চিরুনি তল্লাশি। লালবাজারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মহানগরে ২৫৭২ কিলোগ্রাম নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও বেআইনি আতসবাজি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ২১টি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৮টি মামলায় তিনজন গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং ৪২৫ কিলোগ্রাম বাজি উদ্ধার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ২৯টি মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করে ২৯৯৬ কিলোগ্রাম নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বাজি বিক্রেতাদের হাতে সবুজ বাজি নির্মাতাদের একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত এবং দূষণহীন সবুজ বাজিই বিক্রি ও ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও, কোনো দোকানে যাতে লুকিয়ে বা খোলাখুলিভাবে ফানুস বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। ফানুস ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সতর্কতা ও সচেতনতার প্রচার শুরু করেছে পুলিশ, এমনটাই দাবি লালবাজারের। ইতিমধ্যে বৃহস্পতিবার টালা, ময়দান, বেহালা ও কালিকাপুরে বাজির বাজার শুরু হয়েছে। টালা বাজি বাজারের সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর মান্না জানিয়েছেন, তাঁদের হাতে বাজি নির্মাতা ও বাজির তালিকা এসেছে। সেই তালিকা মেনেই বাজির বাজারে শুধুমাত্র দূষণহীন সবুজ বাজি বিক্রি করা হচ্ছে। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনসুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর কলকাতা পুলিশ।

Related Articles