তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের বনাম প্রধান! চুলোচুলি থেকে মুখে কালি, তুলকালাম খড়গপুরে
খড়গপুর-২ নম্বর ব্লকের চাঙ্গুয়াল গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের মুখে প্রকাশ্য দিবালোকে কালি মাখিয়ে দেওয়া এবং জামাকাপড় টেনে ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দলেরই এক সদস্যের বিরুদ্ধে।
শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর: পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজ বণ্টনকে কেন্দ্র করে পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা প্রকাশ্যে এলো। খড়গপুর-২ নম্বর ব্লকের চাঙ্গুয়াল গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের মুখে প্রকাশ্য দিবালোকে কালি মাখিয়ে দেওয়া এবং জামাকাপড় টেনে ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দলেরই এক সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে চাঙ্গুয়াল গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে জেনারেল বডির মিটিং চলছিল। সেই বৈঠকেই পঞ্চায়েত সদস্য সুজাতা দে অভিযোগ করেন যে, তাঁর এলাকায় উন্নয়নের কাজ করতে গেলে তিনি বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগের সরাসরি নিশানায় ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান দিপালী সিং। এই অভিযোগ ওঠার পরই দু’জনের মধ্যে বচসা চরমে ওঠে এবং পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতির দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে, বচসার একপর্যায়ে প্রথমে পঞ্চায়েত প্রধান দিপালী সিং সদস্য সুজাতা দে-কে লক্ষ্য করে কালি ছিটিয়ে দেন এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন।
এরপরই স্থানীয় তৃণমূলের আরও কয়েকজন মহিলা সদস্য সুজাতা দে-এর পক্ষ নিয়ে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে চড়াও হন। অভিযোগ, তাঁরা পঞ্চায়েত প্রধান দিপালী সিং-কে ঘিরে ধরেন এবং চরম হেনস্থা করেন। অভিযোগকারীরা দিপালী সিং-এর মুখে কালি মাখিয়ে দেন এবং তাঁর জামাকাপড় টেনে ছিঁড়ে দেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা জেলাজুড়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও বেশি করে প্রকাশ্যে এনেছে।
উন্নয়নের কাজ নিয়ে বিবাদ, প্রধানের জামাকাপড় টেনে ছিঁড়লেন দলেরই সদস্য! pic.twitter.com/AG6xUF218E
— TOB DIGITAL (@DigitalTob) October 11, 2025
এই হামলার ঘটনার পর পঞ্চায়েত প্রধান দিপালী সিং সরাসরি রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, “এই হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। বিজেপির প্ররোচনাতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল সদস্য সুজাতা দে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পঞ্চায়েত প্রধানকে হেনস্থা করার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রকাশ্য সংঘর্ষের ঘটনায় দলের অন্দরে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।






