পুজোর অনুদানে ‘শর্ত’? পুজো কমিটিগুলিকে হুঁশিয়ারি বিধায়কের
বিজেপি এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তীব্র সমালোচনা করেছে।
Truth Of Bengal: পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে পুজোর অনুদান পাওয়ার পরও বহু পুজো মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধন্যবাদজ্ঞাপক ব্যানার দেখা যায়নি। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যেসব পুজো কমিটি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যানার লাগায়নি, তাদের আগামী বছর যেন পুজোর অনুদান না দেওয়া হয়—এই মর্মে তিনি প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করবেন।(Nisith Kumar Malik)
রবিবার বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে আয়োজিত পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনী সভায় এই মন্তব্য করেন বিধায়ক। তিনি (Nisith Kumar Malik) বলেন, “দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই টাকা না পেলে গ্রামের অনেক ছোট ছোট পুজো করা সম্ভব হত না। বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী এই অনুদান দিচ্ছেন। অথচ অনেক পুজো মণ্ডপ সেই অনুদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ধন্যবাদজ্ঞাপক ব্যানার টাঙায়নি, যা অত্যন্ত অন্যায়।”
নিজের বিধানসভা এলাকার প্রসঙ্গ টেনে বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক (Nisith Kumar Malik) বলেন, “আমার এলাকায় বেশ কিছু পুজো মণ্ডপ সরকারি অনুদান নিয়েছে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর মতো কোনও ব্যানার সেখানে লাগানো হয়নি। আগামী বছর যেন তারা অনুদান না পায়, সেই বিষয়ে আমি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব।”
তবে বিধায়কের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তীব্র সমালোচনা করেছে। বিজেপি-র জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে বলেন, “আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে তৃণমূল বিধায়কেরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তোষামোদে লিপ্ত হয়েছেন। নিজেদের প্রার্থীপদ নিশ্চিত করতেই এই ধরনের কথাবার্তা বলছেন তাঁরা। কিন্তু প্রশ্ন হল, অনুদানের টাকা তো মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দিচ্ছেন না—তা আসছে সরকারি কোষাগার থেকে। তাহলে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানো বাধ্যতামূলক হতে পারে কীভাবে?”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজ্যে সরকারি অনুদান ও তার রাজনৈতিক ব্যবহারের প্রশ্ন উঠেছে। পুজোর আবহে এই ইস্যু কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।


