কলকাতা

বিসর্জন শোভাযাত্রায় পুলিশের উপর হামলা, আহত চার পুলিশকর্মী

ঘটনায় এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার ও দুই মহিলা পুলিশকর্মী-সহ মোট চারজন পুলিশকর্মী আহত হন।

Truth Of Bengal: দুর্গাপুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ছড়াল কলকাতার গার্ডেনরিচে। শোভাযাত্রার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে মারাত্মক হেনস্থার মুখে পড়েন পুলিশকর্মীরা। অভিযোগ, শোভাযাত্রায় থাকা একাধিক পুজো উদ্যোক্তা লাঠি, রড ও বাঁশ নিয়ে হামলা চালায় পুলিশকর্মীদের উপর। ঘটনায় এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার ও দুই মহিলা পুলিশকর্মী-সহ মোট চারজন পুলিশকর্মী আহত হন। এক কনস্টেবল কর্ণশেখর ভৌমিকের মুখে এমনভাবে আঘাত করা হয় যে তাঁর নিচের চোয়ালের একাধিক দাঁত খুলে পড়ে যায়।(Garden Reach)

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাত দশটা নাগাদ গার্ডেনরিচের পাহাড়পুর রোডে। অভিযোগ, একটি পুজো কমিটি প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা নিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছিল, যার জেরে গোটা রাস্তায় যান চলাচল থেমে যায় ও তৈরি হয় বিশাল ট্রাফিক জট। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ আধিকারিকরা উদ্যোক্তাদের শোভাযাত্রা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে বলেন। সেই কথা ঘিরেই শুরু হয় বচসা। এরপরই উত্তপ্ত পরিস্থিতি রূপ নেয় সংঘর্ষে।(Garden Reach)

পুলিশের অভিযোগ, পুজো উদ্যোক্তারা ঠাকুরের কাঠামো থেকে বাঁশ খুলে নিয়ে এবং রড ও লাঠি হাতে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এমনকি মহিলারাও হামলায় অংশ নেয় বলে দাবি। ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়। এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের চুল ধরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। এক মহিলা পুলিশকর্মীও রেহাই পাননি। তাঁকেও রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আঘাত পান কর্ণশেখর ভৌমিক নামের এক কনস্টেবল, যাঁর মুখে সজোরে আঘাত করা হলে একাধিক দাঁত পড়ে যায়।(Garden Reach)

আহতদের দ্রুত গার্ডেনরিচ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কনস্টেবল ভৌমিককে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় চারজন মহিলা-সহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে গার্ডেনরিচ থানায় খুনের চেষ্টা, পুলিশকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম সাগর দাস, দীপ দাস, অমল গোষ, সঞ্জীবকুমার দাস, বিমল ঘোষ, স্বপন পাত্র ও গোপাল দাস। গার্ডেনরিচ ও মেটিয়াবুরুজ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এই গ্রেপ্তারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টায় নেমেছে পুলিশ।

ঘটনার ভয়াবহতা দেখে এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য। এমন ঘটনায় বিসর্জনের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় আতঙ্কে।

Related Articles