আন্তর্জাতিক

Pakistan Deathpenalty: ‘গুরুতর অপরাধ’ ছাড়া আর ফাঁসি নয় পাকিস্তানে

সেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র ‘গুরুতর অপরাধ’-এর ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য হবে।বাকি কিছু ধারায় সর্বোচ্চ সাজা হবে জীবনকালীন কারাবাস।

Truth of Bengal: পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডের বিধিতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল শাহবাজ শরিফের সরকার। বিশ্বের অন্যতম মৃত্যুদণ্ডপ্রবণ দেশ হিসেবে সমালোচনার মুখে পড়ে, এবার সেই সাজাকে সীমিত করার উদ্যোগ নিল ইসলামাবাদ। পাক পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেট-এ পাশ হল একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল। সেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র ‘গুরুতর অপরাধ’-এর ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য হবে।বাকি কিছু ধারায় সর্বোচ্চ সাজা হবে জীবনকালীন কারাবাস। বিল অনুযায়ী, পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৫৪-এ (সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় প্রদান), ৪০২-সি (প্রকাশ্যে নারীর পোশাক খুলে অসম্মান করা) প্রভৃতি ধারায় আর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না (Pakistan Deathpenalty)।

আরও পড়ুন: Sharda University: উত্তরপ্রদেশের কলেজে উদ্ধার ছাত্রীর মৃতদেহ, মিলেছে সুইসাইড নোটও

এর পরিবর্তে এই সব ধারায় দোষী সাব্যস্তদের সর্বোচ্চ সাজা হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। গত এক দশকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিক থেকে পাকিস্তান বিশ্বের শীর্ষস্থানে।মানবাধিকার সংগঠন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা ছিল ৩,২২৬। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬,০৩৯। ২০২৪ সালের হিসেব অনুযায়ী সেই সংখ্যা আরও বেড়ে হয় ৬,২৬১। অর্থাৎ তিন বছরে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা।এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আরও জোরালো করেছে (Pakistan Deathpenalty)।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/193NB43TzC/

তারই পরিপ্রেক্ষিতে চাপ সামলাতে ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মসৃণ করতে আইন সংশোধনের পথে হাঁটছে শাহবাজ সরকারের প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন মানবাধিকার সংস্থাগুলির চাপকে প্রশমিত করতে সাহায্য করবে, তেমনই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও মেরামতি করতে পারে।তবে এই সংশোধন বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে আইন পাশ হওয়ার পর তার প্রয়োগের উপর। কারণ, পাকিস্তানে শরিয়তি আইন, কট্টর ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক চাপে অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার বাঁধাপ্রাপ্ত হয় বলেই মনে করেন পর্যবেক্ষকরা (Pakistan Deathpenalty)।

Related Articles