সম্পাদকীয়

Bihar Elections: বিহারে ব্যাকফুটে নীতীশ-বিজেপি জোট

The Nitish Kumar–BJP alliance faces backlash ahead of the Bihar elections, with lawlessness.

ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক): সম্ভবত চলতি বছরের নভেম্বরে বিহার প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে (Bihar Elections)। মোট আসন সংখ্যা ২৪৩। ভোট বিশেষজ্ঞদের মতে বিহারে শাসকজোট ভাল জায়গায় নেই। নীতীশ কুমার ও তার সহযোগী দল বিজেপি এই মুহর্তে একরকম কোনঠাসা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা তলানিতে ঠেকেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতিদিনই প্রায় চুরি, ডাকাতি, ধর্ষন, খুন, রাহাজানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। যেখানে রেহায় পাচ্ছে না শাসক শিবিরের নেতা-কর্মী সমর্থকরাও।

সম্প্রতি পাটনায় ব্যবসায়ী ও বিজেপি নেতা গোপাল খেমকারের আততায়ীর গুলিতে মৃত্যু ঘটে। ঘটনাস্থলে তাঁর শরীর একাধিক গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। ওই নেতার পরিবারের অভিযোগ ঘটনার তিন ঘন্টা পরে চপুলিশ ঘটনাস্থলে পোঁছায়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৬ জুলাই অজিত কুমার নামে বেসরকারি স্কুলের মালিককে বাইকে চেপে দুষ্কৃতিরা খুন করে চলে যায়। এভাবেই প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত অপরাধ পাহাড় প্রমান হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন, পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। নিরাপত্তা-হীনতায় ভুগছে নারী-শিশুরাও। আর বিহারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ময়দানে নেমেছে সমস্ত বিরোধী দল (Bihar Elections)।

যেখানে আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদব, কংগ্রেস সাংসদ পাপ্পু যাদবের মতো নেতৃত্বরা রয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, এনডিএ-র জোট শরিক লোকজনশক্তির নেতা চিরাগ পাসোয়ানও চটেছেন। অবশ্য বিহারে তিনি আগামী মন্ত্রিসভায় উপ-মুখ্যমন্ত্রীত্ব পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন দরকষাকষি করেছেন। তার সম্ভাবনা আর নেই জেনে নীতীশ ও তার শরিক বিজেপির সঙ্গ দেওয়ার ক্ষেত্রে বেঁকে বসেছেন। স্বভাবতই এই মুহূর্তে নীতীশ কুমার ও সহযোগী বিজেপি একেবারেই ব্যাকফুটে। এমনিতেই বিহার জুড়ে দারিদ্রতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও দলিতদের ওপর উৎপীড়ন ও ধর্ষন বেড়েছে নীতীশের শাসনকালে।

সেইসঙ্গে সংযোজিত হয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ওয়াকফ আইন। যার ফলে, সংখ্যালঘুরাও বিরোধিতায় এককাট্টা। বিজেপি এহেন পরিস্থিতি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোড শোও করেছেন। কিন্তু বিধি বাম। বিজেপি ও নীতীশের ভোট ম্যানেজাররা ময়দানে নেমে নানারকম কৌশল কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন তো দূর-অস্ত, ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই শাসকদের বিরুদ্ধে মানুষ সরব হচ্ছেন। যার ফসল তুলতে তৎপর বিরোধীরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই নির্বাচন কমিশনের ফরমানে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিরোধীরা। তাঁরা ষড়যন্ত্রের আঁচ পাচ্ছেন। তাই বিরোধীরা একযোগে প্রতিবাদ করছেন (Bihar Elections)।

এই ষড়যন্ত্রের আঁচ অনেক আগেই পেয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমত গোটা দলকে ময়দানে নামিয়ে দিয়েছেন তিনি। দলের নেতাকর্মীদের ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির কাজে নামিয়েছেন। যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ধরে ফেলেছিলেন এবার বিহার ভোটের সামনে অন্যান্য বিরোধীরা কেন্দ্রের এই ষড়যন্ত্র আঁচ করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতায় প্রথমেই বিজেপির এই চালাকি সামনে উঠে আসে। এখন সব বিরোধী দলগুলো বিষয়টি উপলব্ধি করছে। স্পেশাল এস আই আর ইনটেনসিভ রিভিশনের নামে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক ও দলিত ভোটাররাই টার্গেট বলে মনে করছে বিরোধীরা। বিহারে এক্ষেত্রে প্রায় ৩ কোটি ভোটারের নাম বাতিল হতে পারে বলে বিরোধীদের আশঙ্কা।

তারা ছায়া দেখছে দিল্লি, মহারাষ্ট্রের। কারণ আগাম সমীক্ষায় এই দুটি রাজ্যে বিজেপির হারার সম্ভাবনা প্রবল ছিল। ফলাফলে উল্টো প্রতিফলন ঘটে। অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসে কমিশনকে কাজে লাগিয়ে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে এহেন অভিযোগই বারবার উঠছে। প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশন কেন মাথানত করেছে বিজেপির কাছে? বছরের পর বছর সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন। জন্ম যার এই মাটিতে, এই মাটিকে আঁকড়ে ধরে ঘর সংসার করছেন, কেউ তিন পুরুষ, কেউ চার পুরুষ, কেউ পাঁচ পুরুষ, তাঁদের নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে? তারা নিজভূমে পরবাসী হয়ে থাকবেন? আর উড়ে এসে জুড়ে বসা বিজেপি নেতারা, তাঁদের কাগজপত্র আছে তো? তাঁরা তো কেউ কেউ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও, তাঁদের জন্ম প্রমান-আছে তো? যদিও নির্বাচন কমিশন কিছুটা হলেও পিছু হঠেছে। তবুও সাধারনের আতঙ্ক কাটছে না (Bihar Elections)।

বিহার শুধু নয়, এই সমস্যা সারা দেশজুড়ে। যেখানেই নির্বাচন হচ্ছে সেখানেই কমিশনকে দিয়ে কৌশলের খেলা খেলছে বিজেপি! উদ্দেশ্য একটাই, সারা দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। শুধুই বিজেপি, অন্য কোনও দল নয়। সংবিধানের অন্তঃর্জলী যাত্রা ঘটিয়ে দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে ভাঙতে চাইছে। একনায়কতন্ত্র কায়েম করা ওদের লক্ষ্য। তাই দিল্লি, মহারাষ্ট্র বা বিহার নয় এ খেলা চলবে নিরন্তর। তবে কতদিন? প্রকৃত অর্থে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করা কমিশনের কাজ। বিহারে যদি কমিশন নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা করে তাহলে বিজেপি জোটের হারার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ বিজেপির চালাকি ধরে ফেলেছে মানুষ। তবুও হীরক রাজার দেশে ভুখা পেটে বলতে হবে রাজাবাবু জিন্দাবাদ। আর রাজা বাবু ৫৬ ইঞ্চি বুক ফুলিয়ে বলবেন, খাউঙ্গা নেহি, দেঙ্গা নেহি (Bihar Elections)।

Related Articles