আন্তর্জাতিক

Dhaka: ঢাকায় রেল বিভাগের নির্দেশে ভেঙে ফেলা হল খিলক্ষেত দুর্গা মন্দির, কান্নায় ভেঙে পড়লেন হিন্দুরা

হঠাৎ এই পদক্ষেপে হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু নারী ও পুরুষ মন্দির চত্বরে বসে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

Truth of Bengal: অবশেষে রাষ্ট্রীয় নির্দেশে ভেঙে ফেলা হল ঢাকার খিলক্ষেতের ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির। বৃহস্পতিবার সকালেই বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ঢাকা রেলওয়ে বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ও বিভাগীয় এস্টেট অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিন মাহমুদ কর্তৃক ২৪ জুন জারি করা নির্দেশের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয় এই অভিযান।

অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য পূর্বাচল আর্মি ক্যাম্প থেকে বুলডোজার নিয়ে খিলক্ষেত মন্দির প্রাঙ্গণে হাজির হয়। হঠাৎ এই পদক্ষেপে হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু নারী ও পুরুষ মন্দির চত্বরে বসে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। তবে তাতেও থামানো যায়নি উচ্ছেদ অভিযান। প্রতিবাদকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে মন্দিরে চালানো হয় বুলডোজার (Dhaka)।

আরও পড়ুনঃ Hogal River: হোগল নদীতে নৌকাডুবিতে মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল ২ লক্ষ টাকার চেক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই মুহূর্তে ভিডিও করার চেষ্টা করলেও হিন্দুদের বাধার মুখে পড়তে হয়। মন্দিরটি করগেট দিয়ে নির্মিত একটি প্রাচীন কাঠামো ছিল, যেখানে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গাপুজো সহ নানা শারদীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হত। সেখানে ছিল স্বায়ম্ভু কালীমূর্তিও, আর নিত্যসেবার মাধ্যমে জীবিত রাখা হয়েছিল দেবীর আরাধনা। এটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের আবেগের এক প্রধান কেন্দ্র ছিল। এই ঘটনার একদিন আগেই, ২৪ জুন রাতে, স্থানীয় ইসলামিয়া সুইট অ্যান্ড লাইভ বেকারির কর্ণধার মুফতি মাহমুদুল হাসান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খিলক্ষেত থানার সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে একদল মুসলিম জনতা মন্দিরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা মন্দিরে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় এবং হুমকি দিয়ে বলে, “আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে মন্দিরটি ভেঙে ফেলতে হবে।” সেই সময় মন্দিরে থাকা ভক্তদের গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা (Dhaka)।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, “তারা কথা বলার সুযোগ না দিয়েই মন্দিরে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুর শুরু করে। আমাদের হুমকি দিয়ে জানায়, এই মন্দির এখানে থাকতে পারবে না।” ঘটনার প্রতিবাদে পরের দিন খিলক্ষেত দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন হিন্দু মহাজোটসহ একাধিক সনাতনী সংগঠনের নেতা ও সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা দোষীদের গ্রেফতার এবং মন্দির রক্ষার দাবি জানান। কিন্তু শেষপর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জোরে মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয় (Dhaka)।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1DpmwTbAnA/

বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৭০ সালের ২৪ নম্বর অধ্যাদেশের ৫(১) ও ৫(২) ধারা অনুসারে রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই কুড়িল বিশ্বরোড মোড় থেকে খিলক্ষেত বাজার পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করছেন, ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার মধ্য দিয়ে তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত করা হয়েছে (Dhaka)।

Related Articles