সম্পাদকীয়

দেওয়াল লিখন কি শুনতে পাচ্ছেন না?

Can't you hear the writing on the wall?

Truth Of Bengal: রাজ্য বিধানসভায় এখন বামেদের কোন বিধায়ক নেই। ৩৪ বছর রাজ্যের ক্ষমতা ছিল যাদের হাতে, ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর এখন তারা শূন্য। গত লোকসভা নির্বাচনে বা তার আগের বিধানসভা নির্বাচনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তাদের। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনেও জামানত খুইয়েছেন তাদের প্রার্থীরা।

মানুষের জনসমর্থন ফিরে পাবেন কোন পথে? বেশ কিছু ইস্যুতে পথে নেমে বামেরা নিজেদের জানান দিয়েছে বেশ কয়েকবার। সাম্প্রতিক সময়ের কথা ধরলে আরজি কর ইস্যুতে বামেরা অতি তৎপর ছিল। সরকার বিরোধীতায় তাদের সেই আন্দোলন একটা সময় তিতো হতে থাকে। কারণ মূল লক্ষ্য থেকে রাজনীতিটাই প্রাধান্য পেতে থাকে।

নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তির পরিবর্তে ছাত্র নির্বাচনের দাবির মতো নিজস্ব দাবিগুলো গুরুত্ব পেতে থাকে বেশি। আবার যাদবপুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে পথে নেমেছেন বামেরা। বাম ছাত্র সংগঠন গুলি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এমন একটা দিন এই ধর্মঘট ডাকল যে দিন রাজ্যে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার দিন কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্রই ধর্মঘটকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছাড়ায়।

মারপিটের ঘটনা ঘটে শিলিগুড়ি সহ বেশ কয়েকটি জায়গায়। প্রশ্ন উঠছে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে। যেখানে উচ্চ মাধ্যমিকের মত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার হাত ধরে পরীক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার পথে পা বাড়াবেন তখন কেন এই বিশৃঙ্খলা? মুখে ছাত্র স্বার্থের কথা বললেও কার্যক্ষেত্রে কেন এর উল্টোটি? দেওয়াল লিখন কি এখনো বুঝতে পারছেন না তারা?

বাংলার সাধারণ মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সেই ২০১১ থেকে। তারপর একের পর এক নির্বাচনে শুধুই হতাশার ছবি। সাধারণ মানুষের সমর্থন কোন পথে আসতে পারে তা কি ভুলে গেলেন কমরেডরা! আর তাই বারবার ভুল সিদ্ধান্ত। সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে কর্মসূচি! নাকি বুদ্ধিভ্রষ্ট! যাদবপুরের যে ঘটনা, তাও কি কাঙ্খিতে ছিল? শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে ধরে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল তা কি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শোভা পায়?

Related Articles