রাজ্যের খবর

এক মাসেই ১০০০ কোটি টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি! ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাচ্ছে বাংলা

আগে যা আসত এক বছরে, এখন তা আসছে এক মাসেই! চুরির ফাঁক বন্ধ হতেই উপচে পড়ছে কোষাগার

Truth of Bengal: ছাব্বিশের পটপরিবর্তনের পর প্রথম বাজেট পেশের দিন থেকেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছিলেন, মাথায় বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে কীভাবে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের খরচ জোগাবে নতুন বিজেপি সরকার? অবশেষে তার এক অবিশ্বাস্য ও চোখ কপালে তোলার মতো উত্তর মিলল রাজ্য অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। গত ৯ মে শুভেন্দু সরকার (CM Suvendu Adhikari) ক্ষমতায় আসার পর মাত্র এক মাসে অর্থাৎ ৯ জুন পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায় গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে! বালি, কয়লা আর পাথর খাদানের প্রাতিষ্ঠানিক চুরি ও ‘ভাইপো’ সিন্ডিকেটের ‘জল গলে যাওয়ার পথ’ বন্ধ করতেই কোষাগারে বানের জলের মতো টাকা ঢুকছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যেখানে মূলত জমি রেজিস্ট্রি আর আবগারি (Excise) দফতরের আয়ের ওপর ভর করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালাত, সেখানে বর্তমান সরকারের সামনে রাজস্ব আদায়ের এমন কিছু পথ খুলে গিয়েছে, যা আগে সম্পূর্ণ লুঠ হয়ে যেত। বিধানসভার বাজেটের জবাবি ভাষণে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন, “বীরভূমের পাথর থেকে আগে এক বছরে মাত্র আট কোটি টাকা পেত সরকার। বাকি টাকা ক্যামাক স্ট্রিট (Camac Street) হয়ে সোজা দুবাই চলে যেত। আর আমরা মাত্র এক মাসেই পেয়েছি ৮৩ কোটি টাকা! তার মানে ভাইপো বছরে অন্তত ১১০০ কোটি টাকা চুরি করত।”

নবান্ন সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বীরভূমের একটি নির্দিষ্ট পাথর খাদান থেকে তৃণমূল আমলে বছরে রাজস্ব মিলত মাত্র ৬০ কোটি টাকা। আর এখন সততার সঙ্গে কাজ করায় ওই একই খাদান থেকে প্রতি মাসে কোষাগারে আসছে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা! অর্থাৎ বেহুলা-লখিন্দরের লোহার বাসরের ছিদ্রের মতো অনলাইন টেন্ডার ও ডিজিটাইজেশনের আড়ালে যে বিপুল প্রাতিষ্ঠানিক চুরি চলত, তা এখন পুরোপুরি খতম।

স্বপন দাশগুপ্তর নেতৃত্বে তৈরি হচ্ছে ‘শ্বেতপত্র’, মানুষের সামনে আসবে লাখো কোটির লুঠের খতিয়ান

রাজস্ব ফাঁকির এই বিরাট অংশের সঙ্গে রাজনীতি ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের যে হাত ধরাধরি ছিল, তা মানুষের সামনে আনতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর (Finance Minister Swapan Dasgupta) নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক মেগা বৈঠকে এই চুরির খতিয়ান সম্বলিত ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতি ও বানের জলের মতো সরকারি অর্থ উধাও হয়ে যাওয়ার আসল রূপ খুব শীঘ্রই আমজনতার দরবারে আনা হবে।

ইডির নজরে তৃণমূলের ইলেক্টোরাল বন্ড, চুরি আটকানো গেলেই কেল্লাফতে!

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) সূত্রে আরও এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, বালি, কয়লা ও পাথর খাদান থেকে ফাঁকি দেওয়া কোটি কোটি টাকার একটা বড় অংশ ‘ইলেক্টোরাল বন্ড’ (Electoral Bonds)-এর মাধ্যমে ঘুরপথে তৃণমূলের অফিশিয়াল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হয়েছিল। আর এই কারণেই কালীঘাট তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। অর্থ দফতরের এক পদস্থ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “উন্নয়নের জন্য শুধু ঋণের ওপর ভরসা করতে হয় না; রাজ্য থেকে স্রেফ চুরি আর তোলাবাজি রুখে দিতে পারলেই কোষাগারে ফান্ডের কোনও অভাব হয় না।”

Related Articles