হাওড়া-কামাখ্যা রুটে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন করলেন মোদি
উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রেনের ভেতরে গিয়ে খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই নতুন সফরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার দুপুরে মালদহ স্টেশন থেকে তিনি সবুজ পতাকা দেখিয়ে অত্যন্ত আধুনিক এই ট্রেনের যাত্রার সূচনা করেন। হাওড়া এবং কামাখ্যার মধ্যে চলাচলকারী এই সুসজ্জিত ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং স্থানীয় সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রেনের ভেতরে গিয়ে খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই নতুন সফরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
ট্রেনের যাত্রারম্ভের পর এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আজ থেকে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ফলে সাধারণ মানুষের দূরপাল্লার যাত্রা আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ট্রেনটি সম্পূর্ণভাবে ভারতে তৈরি এবং এর প্রতিটি অংশে ভারতীয় শ্রমিকদের পরিশ্রম মিশে রয়েছে। নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আধ্যাত্মিক সংযোগের কথা তুলে ধরে জানান যে এই ট্রেন দক্ষিণেশ্বরের মা কালী এবং অসমের মা কামাখ্যাকে একসূত্রে বাঁধবে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন যে বাংলা থেকে আগামী দিনে আরও চারটি অমৃত ভারত ট্রেন চালানো হবে। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন যে এক সময় ভারতীয়রা বিদেশের ট্রেনের ছবি দেখে মুগ্ধ হতো, কিন্তু এখন ভারত নিজেই সেই মানের ট্রেন তৈরি করে বিশ্বকে অবাক করে দিচ্ছে।
তবে বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদহ থেকে এই ট্রেনের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার বাংলার মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে শাসক দল দাবি করেছে যে প্রধানমন্ত্রী মালদহ স্টেশনে পৌঁছানোর আগে সেখানে অপেক্ষারত সাধারণ যাত্রীদের আরপিএফ কর্মীরা মারধর করে স্টেশন চত্বর থেকে বের করে দিয়েছেন। এই ঘটনায় আরপিএফের অমানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন স্লিপার ট্রেনের ফলে বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। আধুনিক কোচ, উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের আরামদায়ক ঘুমের জন্য এই ট্রেনটি বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। মোদির এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে মালদহ শহর এবং স্টেশন চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নিয়মিত এই ট্রেনটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী চলবে।






