রাজ্যের খবর

নারী পাচারচক্রে এবার তৃণমূল নেতার নাম! কোচবিহারের মা ও মেয়েকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ

এই নারী পাচারচক্রে শাসকদলের নেতার সরাসরি যুক্ত থাকার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে

Truth of Bengal: কোচবিহারের এক গৃহবধূ ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য আনারুল মিয়াকে। এই নারী পাচারচক্রে শাসকদলের নেতার সরাসরি যুক্ত থাকার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ধৃত তৃণমূল নেতাকে বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে, যখন কোচবিহারের ওই গৃহবধূ ও তাঁর নাবালিকা মেয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পরবর্তীতে জানা যায়, বালুরঘাটের হিলি বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁদের অপহরণ করেছিল একদল দুষ্কৃতী। অপহরণের পর মহিলার পরিবারের কাছে ফোন করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বাধ্য হয়ে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা হিলি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার সঙ্গে ওই গৃহবধূর একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। দুলালের প্ররোচনাতেই তিনি নিজের নাবালিকা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ঘর ছেড়ে গঙ্গারামপুরে চলে এসেছিলেন। অভিযোগ, সেখানে সুযোগ বুঝে ওই মহিলার কিছু আপত্তিকর ছবিও তোলা হয়।

এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশে পাচারের মূল পরিকল্পনা। অভিযোগ উঠেছে, গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য আনারুল মিয়ার সক্রিয় সহযোগিতায় দুলাল ওই মহিলা ও তাঁর মেয়েকে হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচার করে দেয়। এই কাজে শাহাজাত হোসেন মণ্ডল নামে এক দালাল তাদের সরাসরি সাহায্য করেছিল। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে দুলাল মিয়া ও শাহাজাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বিএসএফের সহায়তায় হিলির শূন্য রেখা বা জিরো পয়েন্ট থেকে পাচার হয়ে যাওয়া ওই গৃহবধূ ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।