‘ভোটারদের হয়রানি বরদাস্ত নয়’, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগে উত্তাল সামশেরগঞ্জ
এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি দলের।
কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে সামশেরগঞ্জ বিডিও অফিসে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বরা। মঙ্গলবার সামশেরগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে দফায় দফায় স্লোগান তুলে বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভ ঘিরে প্রশাসনিক চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ও হইচই সৃষ্টি হয়।তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নামে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। কোন কোন ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ কোনও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি দলের।
বিক্ষোভস্থলে বিধায়ক আমিরুল ইসলাম বলেন,গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্যই আমরা পথে নেমেছি। ভোটারদের হয়রানি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনকে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুনানি টেবিলে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) থাকতে না দেওয়া হলে গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে। তাই প্রতিটি শুনানি টেবিলে বিএলএ-দের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার দাবি জানায় তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল নেতৃত্বদের আরও অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সকালে নোটিশ দিয়ে দুপুরেই শুনানিতে হাজির হতে বলা হচ্ছে। এমনকি ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদেরও জরুরি ভিত্তিতে নোটিশ পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা কীভাবে শুনানিতে আসবেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক।
বিক্ষোভে উপস্থিত তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনও ষড়যন্ত্র হলে তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন যদি অবিলম্বে এসআইআর সংক্রান্ত দাবিগুলি পূরণ না করে, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে একের পর এক মানবিক ও প্রশাসনিক সমস্যার ছবি সামনে আসছে, তাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরাল হচ্ছে।






