দেশ

Assam Terror: অসমে জঙ্গি দমনে বড় সাফল্য! গ্রেফতার বাংলাদেশের চরমপন্থী সংগঠনের ১১ সদস্য

তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে জুয়েল মাহমুদ ওরফে সোহেল এই আইএমকে গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেন।

Truth of Bengal: অসম পুলিশ রাজ্যে এক বিশাল জঙ্গি মডিউল বা চক্রের পর্দাফাঁস করেছে। বাংলাদেশের একটি চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১১ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সতর্কবার্তার ভিত্তিতে উত্তর-পূর্ব ভারত, বিশেষ করে অসমে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানোর সময় এই সাফল্য মিলেছে। ধৃতদের পরিচয় প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ। ধৃতেরা হল নাসিম উদ্দিন ওরফে তমিম (২৪), জুনাব আলি (৩৮), আফরাহিম হোসেন (২৪), মিজানুর রহমান (৪৬), সুলতান মাহমুদ (৪০), মহম্মদ সিদ্দিক আলি (৪৬), রাশিদুল আলম (২৮), মহিবুল খান (২৫), শারুক হোসেন (২২), মহম্মদ দিলবর রাজাক (২৬) এবং জাগির মিয়া (৩৩)। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ ‘ইমাম মাহমুদ কাফিলা’ বা আইএমকে (IMK) নামক একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এই গোষ্ঠীটি ভারতে নিষিদ্ধ জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর একটি শাখা হিসেবে পরিচিত।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে জুয়েল মাহমুদ ওরফে সোহেল এই আইএমকে গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজেকে এই সংগঠনের আমির বলে দাবি করেন এবং ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ মতাদর্শ প্রচার করেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এবং ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়দা (একিউআইএস)-এর শীর্ষ নেতারা আইএমকে-কে ভারতে তাদের সক্রিয়তা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। এই কাজের সমন্বয় করার জন্য ওমর এবং খালিদ নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে অসমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জঙ্গিরা মূলত নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করত। ‘পূর্ব আকাশ’ নামে একটি বিশেষ গ্রুপের মাধ্যমে তারা অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার তরুণদের মগজ ধোলাই করত এবং অর্থ সংগ্রহ করত। বিশেষ করে যাদের কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট আছে, যারা নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করে কিংবা যারা আগে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদেরই মূলত সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হতো। ভারতের ওপর সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিজয় অর্জনের কট্টরপন্থী চিন্তাধারা বা ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ প্রচারের জন্য তারা ‘সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ’ এবং ‘গাজওয়াতুল হিন্দের সংক্ষিপ্ত আলোচনা’-র মতো উগ্র মতাদর্শের বই ছড়িয়ে দিত।

বর্তমানে ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩ এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ), ১৯৬৭-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কিছু স্লিপার সেল রাজ্যে সক্রিয় থাকতে পারে। তাদের সমূলে নির্মূল করতে তদন্ত জারি রাখা হয়েছে।