বারুইপুরে জারি ১৬৩ ধারা, মোতায়েন বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
সকাল থেকেই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং কোথাও কোনো বেআইনি জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না।
Truth of Bengal: ১২ বছরের কিশোরীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নেওয়া বারুইপুরে নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে সোমবার সকাল থেকেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর—এই তিনটি থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এর ফলে এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকাল থেকেই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং কোথাও কোনো বেআইনি জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আইন হাতে না নেওয়ার এবং কোনো রকম গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।
শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে পুকুর থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হতেই বারুইপুর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি খুনি সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দেয়, যাতে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশকে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে—নাবালিকা খুন, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু এবং পুলিশের ওপর হামলা। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে রবিবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এ পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে এবং আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধৃত ও আটক ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই নাবালিকা খুনের মামলার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নিহত কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং সেই রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ ও ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহতের বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং তাঁকে মঙ্গলবার ভবানীভবনে দেখা করতে বলেছেন। এর পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিহত কিশোরীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলেছেন। আপাতত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।





