Kaushiki Amavasya: তন্ত্র সাধনার পূর্ণ তিথি, কৌশিকী অমাবস্যায় সেজে উঠেছে তারাপীঠ
ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথি কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত। তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত তারাপীঠে এবারও কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে উপচে পড়েছে ভক্ত ও সাধকদের ভিড়।
Truth of Bengal: হিন্দু শাস্ত্রমতে কৌশিকী অমাবস্যায় মায়ের পুজোর আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়। তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেবী পার্বতী অশুভ শক্তি বিনাশের উদ্দেশ্যে নিজের দেহকোষ থেকে ভয়ঙ্কর এক দেবীর সৃষ্টি করেন। তিনিই দেবী কৌশিকী নামে খ্যাত। ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথি কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত। তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত তারাপীঠে এবারও কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে উপচে পড়েছে ভক্ত ও সাধকদের ভিড়। প্রতি বছরের মতো এবারও এই বিশেষ তিথিতে মা তারার আরাধনা এবং সাধনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছে। পঞ্জিকা মতে, এই বছর (২০২৫) কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হচ্ছে ২২শে অগস্ট, শুক্রবার (Kaushiki Amavasya)।
আরও পড়ুনঃ KMC Jobs: লিখতে, পড়তে জানলেই কলকাতা পুর নিগমে চাকরি, শূন্যপদ ৭০০’র বেশি
এই তিথি চলবে ২৩শে অগস্ট, শনিবার পর্যন্ত।নিশিপূজা ও তন্ত্রসাধনার মাহাত্ম্য কৌশিকী অমাবস্যার রাতকে তন্ত্র মতে ‘তারা রাত্রি’ বলা হয়। কথিত আছে, এই তিথিতেই সাধক বামাক্ষ্যাপা তারাপীঠের মহাশ্মশানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। তাই এই রাতে তারাপীঠের শ্মশানঘাটে সাধকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। তারা তন্ত্রমন্ত্র পাঠ এবং নানা উপাচারে দেবীর আরাধনা করছেন। প্রচলিত বিশ্বাস, এই তিথিতে দেবী তারার পূজা করলে ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এবং সাধকদের সিদ্ধিলাভ হয়। পুণ্যার্থীদের বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখে তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ নজর দেয়। মন্দির চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বীরভূম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী ও সিভিক ভলেন্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে (Kaushiki Amavasya)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/truthofbengal
যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক ড্রপগেট বসানো হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে এবং বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।শুক্রবার সকাল থেকে চলে পূজা ও ভোগ নিবেদন। মন্দিরে ভিড় জমান ভক্তরা। লাইনে দাঁড়িয়ে তারা মা তারার দর্শন ও পূজা করেন। সারাদিন ধরে দেবীকে বিভিন্ন ধরনের ভোগ নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যাবেলায় শুরু হয় বিশেষ আরতি ও নিশিপূজা। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই বিশেষ দিনে মা তারা রাজ রাজেশ্বরী রূপে আবির্ভূত হন।সব মিলিয়ে, তারাপীঠের কৌশিকী অমাবস্যা শুধু একটি ধর্মীয় তিথি নয়, এটি আধ্যাত্মিক সাধনা ও বিশ্বাসের এক বিশেষ মিলনক্ষেত্র। ভক্তদের বিশ্বাস আর সাধকদের নিষ্ঠায় এক অন্যরকম আবহে বিশেষভাবে সেজে উঠেছে গোটা তারাপীঠ (Kaushiki Amavasya)।






