সিঙ্গুরে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল তাপসী মালিকের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী
এছাড়াও স্থানীয় অগণিত মানুষ ও দলীয় কর্মী-সমর্থকরা এদিন সকালে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তরুণ মুখোপাধ্যায়, হুগলি: হুগলি জেলার সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত কামারকুন্ডু বাজেমেলিয়ায় বৃহস্পতিবার যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হলো শহীদ তাপসী মালিকের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে সিঙ্গুর আন্দোলনের এক উত্তাল পর্বে প্রাণ হারিয়েছিলেন তাপসী মালিক।
এদিন সকালে বাজেমেলিয়ায় তাপসী মালিকের স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত তাঁর মর্মর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান রাজ্যের মন্ত্রী তথা জমি আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা বেচারাম মান্না এবং হরিপালের বিধায়ক ডঃ করবী মান্না। এছাড়াও স্থানীয় অগণিত মানুষ ও দলীয় কর্মী-সমর্থকরা এদিন সকালে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শহীদ স্মরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মন্ত্রী বেচারাম মান্না তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সেদিন যেভাবে তৎকালীন সরকারের বাহিনী তাপসী মালিককে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল, তা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। কৃষকদের দু-ফসলি ও তিন-ফসলি উর্বর জমি কেড়ে নিয়ে জোর করে শিল্প গড়ার যে পদক্ষেপ বামফ্রন্ট নিয়েছিল, বাংলার মানুষ তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।”
সিপিআইএম-কে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “ওরা নিজেদের কৃষক ও শ্রমিক দরদী দাবি করলেও আদতে যে তারা কৃষক বিরোধী, সিঙ্গুর আন্দোলনই তা প্রমাণ করে দিয়েছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, দলনেত্রীর মরণপণ সংগ্রামের ফলেই সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকরা তাঁদের জমি ফেরত পেয়েছেন। আর এই লড়াইয়ে সামিল হতে গিয়েই কিশোরী তাপসী মালিককে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছিল।
এদিন উপস্থিত বক্তারা একযোগে জানান, ভারতের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে তাপসী মালিকের আত্মত্যাগ সবসময় অমর হয়ে থাকবে। যতদিন কৃষক আন্দোলন ও কৃষিজীবী মানুষের অধিকারের লড়াই চলবে, ততদিন তাপসী মালিক এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবেন।






