ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, ঝাড়গ্রামের সেই দোকানিকে পড়শি দেশ থেকে খুনের হুমকি
ঝালমুড়ি বিক্রেতা ঝাড়গ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন
Truth of Bengal: নির্বাচনী প্রচারের একটি সাধারণ ঘটনা যে শেষ পর্যন্ত এতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, তা বোধহয় ভাবতেও পারেননি ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা। লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে যার দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এবার সেই সাধারণ ব্যবসায়ীকেই সরাসরি খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই সমস্ত হুমকি কোনো স্থানীয় নম্বর থেকে নয়, বরং এসেছে সীমান্ত পার করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে। একের পর এক মেসেজ ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এই ধারাবাহিক হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত ব্যবসায়ী ঝাড়গ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশ প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ এপ্রিল, যখন বাংলায় নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দফায় জঙ্গলমহলে সভা করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভা শেষে তাঁর কনভয় যখন ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড় এলাকা দিয়ে পার হচ্ছিল, তখন আচমকাই গাড়ি থেকে নেমে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সোজা চলে যান স্থানীয় বাসিন্দা বিক্রমকুমার সাউয়ের ঝালমুড়ির দোকানে এবং সেখান থেকে মুড়ি খান। খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিজের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বিক্রম। পশ্চিমবঙ্গের ভোটের রাজনীতিতে এই ঘটনা সে সময় বিপুল আলোড়ন ফেলেছিল। ঘটনাচক্রে, এবারের নির্বাচনে জঙ্গলমহলে বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি এবং রাজ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে নতুন সরকার গঠন করেছে তারা। এই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই এবার সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে নিশানা করা হল।
অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে বিক্রমকুমার সাউয়ের মোবাইলে মেসেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপে একের পর এক হুমকি বার্তা আসছে। শুধু টেক্সট মেসেজই নয়, এমনকি আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ভিডিও কল করে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই কল ও মেসেজগুলির উৎস পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। এই ঘটনার পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছে বিক্রমের পরিবার। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, তিনি সাময়িকভাবে নিজের দোকান বন্ধ করে আত্মগোপন করতে বাধ্য হন।
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঝাড়গ্রাম থানার দ্বারস্থ হন ওই ব্যবসায়ী। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ এবং সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। যে সমস্ত আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ফোন এবং মেসেজ এসেছিল, সেগুলির আইপি অ্যাড্রেস ও লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা চলছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে এবং ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিক্রম ও তাঁর পরিবারের সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার পিছনে গভীর কোনও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে জঙ্গলমহলে।






