রাজ্যের খবর

মমতা-অভিষেককে একযোগে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর, ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে আর রাজনৈতিক জমি নেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাই তাঁকে দিল্লি গিয়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। পাল্টা শুভেন্দুকে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ বলে আক্রমণ করেছে কালীঘাট তৃণমূল।

শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে আগামী পুরভোটও ‘পদ্মময়’ হবে বলে দাবি করেন তিনি। ভোট-পরবর্তী হিংসা ও জমি দখল নিয়ে জাহাঙ্গির খান থেকে শওকত মোল্লাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। শুক্রবার ফের তাঁকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘যদি ক্ষমতা থাকে লড়ুন। আবার হারাব।’’ দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আপনি রামলীলা ময়দানে যান, পশ্চিমবঙ্গে আর কিছু হবে না।’’

শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাবেন কি না, তা শুভেন্দু অধিকারীর কথায় ঠিক হবে না। মমতা লড়াইয়ে বিশ্বাস করেন এবং তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই, কলকাতা ও রাজ্য পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। একাধিক মামলা এবং তাঁর আপ্তসহায়ককে হেফাজতে রাখার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না।

শুক্রবার সেই অভিযোগের জবাবে অভিষেককে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর মন্তব্য, ‘‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বড় চোরটা কবে জেলে যাবে? সব কিছুই সময়মতো করতে হয়।’’ এরপর অভিষেকের নাম নিয়ে বলেন, ‘‘তুমি ভোটে দাঁড়ালেই হারাব। তুমি যত ভোটে জিতেছ, তার থেকে এক ভোট বেশি হলেও হারাব।’’

পাল্টা সৌগত রায় শুভেন্দুকে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বহু তৃণমূল কর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজ্যের মানুষের কথা না ভেবে তিনি মানুষকে জেলে পাঠানোর কথা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন সৌগত।

এদিন বারুইপুরের সভা থেকে বামপন্থী ও ককরোচ পার্টির নেতা-সমর্থকদেরও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। কয়েক দিন আগে কাকদ্বীপে সভার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বারুইপুরে আরশোলা ও ছারপোকার উপদ্রব বেড়েছে বলেই এখানে সভা করার প্রয়োজন ছিল।

Related Articles