রাজ্যের খবর

‘নন্দীগ্রামে এঁরাই আমার ভগবান’, মনোনয়ন জমা দিয়ে কেন বললেন শুভেন্দু?

৩০ মার্চ, সোমবার হলদিয়া মহকুমা শাসক দফতরে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন শুভেন্দু অধিকারী।

Truth of Bengal: রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের ইতিহাস লেখা নন্দীগ্রামে ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে ভোটে জয়লাভ করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লড়াইটা অনেক শক্ত ছিল শুভেন্দুর। কারণ তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেবার ছিল সংখ্যালঘু ভোট। কিন্তু তা সত্ত্বেও জয়লাভ এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রামের পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য। তাই তাদের ভগবান তুলল মনে করেন তিনি।

২০২৬-এর ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। ৩০ মার্চ, সোমবার হলদিয়া মহকুমা শাসক দফতরে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব সহ নন্দীগ্রামের শহীদ পরিবারের লোকজন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে হলদিয়ায় একটি বিজয় সংকল্প সভা করেন। সেই সভা থেকে মিছিল করে মহাকুমার শাসকের দফতরে আসেন শুভেন্দু অধিকারী সঙ্গে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। এদিন দুই নেতাকে দেখা যায় খোশ মেজাজে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের মানুষদের ভগবান বললেন।

তিনি বলেন, “একুশে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলাম মিছিল করে। ছাব্বিশে মিছিল করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছি। সাধারণ মানুষ উৎসাহিত এখনই এই দুর্নীতিবাজ সরকারকে উপড়ে ফেলতে। জয় হবে নিশ্চিত। একুশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়াইটা কঠিন ছিল। কারণ ওনার সঙ্গে ছিল সংখ্যালঘু ভোট। সংখ্যালঘু অধিষ্যুত ভোট বুথগুলিতে উনি লিড পান। কিন্তু পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় এলাকার বুথগুলিতে আমাকে সম্পূর্ণ আশীর্বাদ করেছে আরও বেশি লিড দিয়েছিল। নন্দীগ্রামের ওইসব মানুষজন আমার কাছে ভগবান।”

পাশাপাশি, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়েও মন্তব্য করেন। “ভবানীপুরে প্রথমবার বিজেপির পদ্মফুল ফুটবে না ২০২৬-এ দ্বিতীয়বার পদ্মফুল ফুটবে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতার প্রার্থী তথাগত রায় ওই ভবানীপুর বিধানসভা থেকে ২০০০ ভোটে লিড নিয়েছিল। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বার ভবানীপুরে পদ্মফুল ফুটবে”, বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন হলদিয়া মহকুমা শাসক দফতরে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি হলদিয়া ও মহিষাদলের বিজেপি প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। আর এই মনোনয়নপত্র জমা ঘিরে মহকুমাশাসক দফতরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। এদিন নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি মহিষাদলের বিজেপি প্রার্থী সুভাষ পাঁজা এবং হলদিয়ার প্রার্থী প্রদীপ বিজলী মনোনয়ন জমা করেন।

এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘বাংলার মানুষের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু করেনি। শুধু মিথ্যা কথা বলে চলেন। আমি বিজেপি নেতা, ডিমও খাই, মাছ-মাংসও খাই’।

Related Articles