রাজ্যের খবর

জলাতঙ্ক মুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার! গোঘাটের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ১৩২টি কুকুরকে টিকাদান

পরে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস এবং প্রাণী কল্যাণ পক্ষ উপলক্ষে বিডিও অফিসে একটি সচেতনতা সভা করা হয় প্রাণীসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে

তরুণ মুখোপাধ্যায়, হুগলী: ১২ই ফেব্রুয়ারি: রাজ্য জুড়ে ‘প্রাণী কল্যাণ পক্ষে’ ১৩২ টি পথকুকুরকে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়া হল গোঘাটে। গোঘাট ১ ব্লক প্রাণী সম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে এবং আশ্রয় হোম এন্ড হসপিটাল ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায়। বৃহস্পতিবার সারা আশ্রয় হোম এন্ড হসপিটাল অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রশিক্ষিত কর্মী (ডগ ক্যাচার)দের সহযোগিতায় ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে পথকুকুরদের জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক দেওয়া হয়, মানা হয় সমস্ত প্রাণী-স্বাস্থ্যবিধি । পরে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস এবং প্রাণী কল্যাণ পক্ষ উপলক্ষে বিডিও অফিসে একটি সচেতনতা সভা করা হয় প্রাণীসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে।

সভায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, কর্মাধ্যক্ষ, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক ও আশ্রয় হোম এন্ড হসপিটাল অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনর সদস্যদের উপস্থিতিতে জলাতঙ্ক রোগের ভয়াবহতা, পথকুকুরের টিকাকারণের প্রয়োজনীয়তা, প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে নাগরিকদের কর্তব্য, দায়িত্ব, পশুপাখির আইনী অধিকার বিষয়ে আলোচনা হয়। পথকুকুরদের জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল বা ABC) সংক্রান্ত শীর্ষ আদালতের নির্দেশকা বিষয়ে আলোচনা করেন প্রাণীচিকিৎসক ডা: সুশোভন চৌধুরী।প্রাণীসম্পদ বিকাশ আধিকারিক, ডা: ফাল্গুনী চক্রবর্তী বলেন, ‘পথকুকুরদের টিকাকরণ তথা জন্মনিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ, এতে কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগে মানুষ ও গৃহপালিত প্রাণীদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে।

‘হিউম্যান-অ্যানিম্যাল- কনফ্লিক্ট’ এবং পথকুকুরদের উপর নির্যাতনের ঘটনাও কমবে। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আশ্রয় হোম এন্ড হসপিটাল ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রাজীব বেলেল ও টুপাই হাজরা বলেন, এই কর্মসূচি সর্বত্র হওয়া দরকার। প্রাণীদের উপর অত্যাচার বন্ধ হওয়াও দরকার। ঐ সংগঠনের সম্পাদক গৌতম সরকারের বক্তব্য, যত প্রাণী পৃথিবীতে জন্মেছে, সকলের সসম্মানে এখানে বসবাস করার অধিকার আছে। সকল প্রাণীদের নিরাপদে যাপনের দায়িত্ব জীব শ্রেষ্ঠ মানুষেরই। পশু নির্যাতন বিরোধী আইনকেও আরও কঠোর করা দরকার।

Related Articles