অন্যের মৃত বাবাকে নিজের বাবা বানিয়ে প্রতারণা! মুর্শিদাবাদে ১৬ বছরের গোপন নথি জালিয়াতি ফাঁস, গ্রেফতার আব্দুল কালাম!
ভোটার কার্ড, প্যান থেকে রেশন নথি, অন্যের বাবার নামে জালিয়াতি! সাগরদিঘিতে পুলিশের জালে ভুয়ো সন্তান
কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: পরিচয় সংক্রান্ত চরম জালিয়াতি ও সরকারি নথিপত্র বিকৃতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তোলপাড় মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার বেলাইপাড়া এলাকা। অন্যের মৃত পিতাকে নথিপত্রে জালিয়াতি করে নিজের বাবা দেখিয়ে নানাবিধ সরকারি সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবদুল কালাম নামে এক বহিরাগত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সাগরদিঘি থানার পুলিশ। ১৬ বছর ধরে অত্যন্ত কৌশলে নিখুঁতভাবে চালানো এই বিরাট প্রতারণার জাল অবশেষে উন্মোচিত হতেই এলাকায় তীব্র শোরগোল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার অভিযোগকারী আতাউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, আনুমানিক ১৬ বছর আগে আবদুল কালাম নামে এক সম্পূর্ণ বহিরাগত ব্যক্তি তাঁদের বেলাইপাড়া গ্রামে প্রথম আগমন ঘটে। পরবর্তীতে তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা সামিনা বিবিকে বিয়ে করে পাকাপাকিভাবে সেখানেই বসবাস করতে শুরু করেন। আতাউরের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁদের পরিবারে চার ভাই ও দুই বোন মিলে প্রকৃত সন্তানের সংখ্যা মোট ছয়জন। কিন্তু ২০২৬ সালের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত ‘অ্যাডজুডিকেশন লিস্ট’ (Adjudication List) হাতে পেতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় পরিবারের সদস্যদের! তালিকার তথ্যে দেখা যায়, তাঁদের পরিবারের মোট সন্তানের সংখ্যা ছয়জনের পরিবর্তে সাতজন লেখা রয়েছে!
বিষয়টিতে গভীর সন্দেহের অবকাশ তৈরি হওয়ায় আতাউর রহমান ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর ও তদন্ত শুরু করেন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর সত্য। দেখা যায়, অভিযুক্ত কালাম দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আতাউরের প্রয়াত পিতাকে নথিপত্রে নিজের ‘পিতা’ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে রেখেছেন! শুধু তা-ই নয়, নিজের ভোটার পরিচয়পত্র, রেশন কার্ড এবং প্যান কার্ড-সহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতেও আতাউরের মৃত বাবার নামই ব্যবহার করে গিয়েছেন ওই ব্যক্তি। এমনকি সাম্প্রতিক এসআইআর পরিকাঠামোতেও আতাউরের মায়ের নাম ও ভোটার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আতাউরের পরিবারেরই অতিরিক্ত সন্তান হিসেবে নিজেকে সরকারি খাতায় নথিভুক্ত করিয়ে নেন তিনি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাগরদিঘি থানায় আতাউর রহমান একটি লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে নেমে জালিয়াতির স্বপক্ষে সমস্ত সরকারি নথিপত্র খতিয়ে দেখে সত্যতা পায় এবং শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কালামকে গ্রেফতার করে। সাগরদিঘি থানা পুলিশ জানিয়েছে, জালিয়াতির ঘটনার শিকড় কতদূর তা বের করতে রবিবার তাকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। আসামিকে হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের পেছনে অন্য কোনও বড় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মদত রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।






