রাজনীতিরাজ্যের খবর

রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়তে চান জহর,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লিখলেন চিঠি

Jahar sarkar wants to leave the Rajya Sabha MP post

Truth of Bengal: আরজি করের তরুণী চিকিৎসক খুন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবার সাংসদ পদ ছাড়ার কথা তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন জহর সরকার। তৃণমূল সুপ্রিমোকে লেখা চিঠিতে জহর সরকার জানিয়েছেন,তিনি রাজনীতিও ছাড়তে চান। জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে স্বতঃস্ফূর্ত অরাজনৈতিক আন্দোলন বলেও উল্লেখ করেছেন জহর সরকার। আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীকে অচলাবস্থা কাটাতে সক্রিয় হাওয়ার আবেদনও করেছেন তিনি।

৯অগাস্ট আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের খুনও নির্যাতনের প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন জুনিয়র ডাক্তার সহ সমাজের সব অংশের মানুষেরা। রাজনীতি নির্বিশেষে মানুষ সেই আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। নাগরিক সমাজের সেই আন্দোলনকে স্বতঃস্ফূর্ত বলে উল্লেখ করে এবার সাংসদ পদ ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন জহর সরকার। জহর সরকার, চিঠিতে উল্লেখ করেছেন,তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়তে চান। একইসঙ্গে রাজনীতি ছাড়ার কথাও উল্লেখ করেছেন চিঠিতে।

চিঠিতে তিনি আরও তুলে ধরেছেন,যে কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে তিনি উঠে আসেননি। কেবল বিজেপির একনায়কতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক  শাসনের বিরুদ্ধে তিনি সংসদীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তুলে ধরেছেন। সংসদের ভিতরে তিনি মোদি সরকারের কর্তৃত্ববাদী,বিভাজনকামী,বঞ্চনমূলকও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করেছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে  নৈতিক  দিক থেকে সমর্থনও জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, যেসব চিকিৎসক ও নাগরিক এই আন্দোলন করছেন,তাঁদের দাবি সঙ্গত,স্বতঃস্ফূর্ত। আর রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে এই আন্দোলনকে মর্যাদা দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে  আহ্বান জানিয়েছেন জহর সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরাসরি জুনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাবও রেখেছেন চিঠিতে। এখন সরকার যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয় বলেও মনে করছেন প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও। তাঁর কথামতো বলা যায়, কোনওদিনই রাজনীতির জগতের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। তিনি বরাবরই সুদক্ষ আধিকারিক হিসেবে কাজ করেছেন।যেকোনও বিষয়ে সংসদও সংসদের বাইরে প্রতিবাদের স্বর ব্যক্ত করেছেন।

এখন সাংসদ পদ ছাড়ার কথা জানিয়ে জহর সরকারের এই চিঠি রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে। কুণাল ঘোষ সহ তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ জহর সরকারের এই চিঠি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁরা মনে করছেন, জহর সরকারের মতোই তৃণমূল কংগ্রেস চায় নির্যাতিতা বিচার পাক। সেজন্য দেশের মধ্যে এই প্রথম বাংলার সরকার ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ রুখতে অপরাজিতা উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড বিল-২০২৪  বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে পাস করিয়েছে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন অনেকে।

Related Articles