সোনারপুরে হামলার পরেই বড় সিদ্ধান্ত! রাতারাতি অভিষেকের নিরাপত্তা বাড়াল সরকার
৩ জন সশস্ত্র বডিগার্ড সামলাবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে! সোনারপুর কাণ্ডের পর নবান্নের মেগা অ্যাকশন
Truth of Bengal: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ি গিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নজিরবিহীন জনরোষ ও হামলার মুখে পড়েছেন, তার পরেই নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। শনিবার বিকেলের সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, রাতেই ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সুরক্ষার পরিধি বাড়িয়ে তাঁকে ‘এক্স’ (X) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতার সঙ্গে সর্বদা ৩ জন করে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবেন।
জেড প্লাস হারিয়ে পেয়েছিলেন মাত্র ২ জন গার্ড
উল্লেখ্য, বিগত তৃণমূল জমানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের অন্যতম ভিভিআইপি (VVIP) হিসেবে সর্বোচ্চ ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। একজন সাধারণ সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সুরক্ষায় পুলিশের বিশাল বহর ও কনভয় নিয়ে সেই সময় বিরোধী দলগুলি বারবার সরব হয়েছিল। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা ছাঁটাইয়ের জন্য উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই অভিষেকের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং কালীঘাটের হরিশ মুখার্জী রোডের বাড়ির সামনের পুলিশি পাহারাও তুলে দেওয়া হয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, একজন সাধারণ লোকসভা সাংসদ আইন অনুযায়ী যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, অভিষেকও ঠিক ততটুকুই পাবেন। সেই মতো গত কয়েক মাস ধরে মাত্র ২ জন বডিগার্ড থাকছিল তাঁর সঙ্গে। শনিবার সোনারপুরে যাওয়ার সময়েও তাঁর সঙ্গে মাত্র ২ জনই নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, যা উত্তেজিত জনতাকে রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
ভিডিও দেখে ৬ জন গ্রেফতার, জারি কড়া নজরদারি
সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম ও ইটের টুকরো বৃষ্টি এবং গাড়ি ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সোনারপুর থানার পুলিশ শনিবার রাতভর ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়।
View this post on Instagram
জনরোষ ও হামলার ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিও ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখে রাতেই স্থানীয় ৬ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। এই হামলায় আর কারা কারা পেছন থেকে ইন্ধন জুগিয়েছিল, ধৃতদের ম্যারাথন জেরা করে তাদেরও খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে এবং কোনও রকম ঝুঁকি না নিতেই তড়িঘড়ি ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতির নিরাপত্তা একধাপ বাড়িয়ে ৩ জন গার্ডের ‘এক্স’ ক্যাটাগরি করার সিদ্ধান্ত নিল স্বরাষ্ট্র দফতর।






