
The Truth of Bengal: কথায় আছে টাকির লাঠি, সাতক্ষিরার মাটি আর ধান্যকুড়িয়ার জমিদারদের চাঁদি! সেসব দিন আজ অতীত। জমিদারবাড়ির জৌলুস কমেছে। তবু পাঁচ খিলানের দুর্গা দালানে এখনও ছাপ রয়ে গেছে টাকির ঘোষ বাড়ির জমিদারদের প্রভাব প্রতিপত্তির ।সাড়ে তিনশো বছরেরও আগে দুর্গা দালানটি তৈরি হয়েছিল। এখনও ইছামতীর পশ্চিম পাড়ে ঘোষবাড়িতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দালানের খিলানগুলি। অতীত ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই বৈষ্ণব মতে নিষ্ঠাভরে পুজোপাঠ হয় পুজোয়।পূর্বপুরুষের রীতি-নীতি মেনে এখনও বৈষ্ণব মতে পুজো হয় এই । মোঘল আমলের শেষে আর ইংরেজআমলের শুরু থেকে চলে আসছে এই পুজো।
৩৫৩বছরের এই পুজোয় আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়ার রীতি এখনও চলছে। বাড়ির বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও পুজোর ক’টা দিন সকলেই জড়ো হন টাকির বাড়িতে। একসময় স্বদেশী আন্দোলনের চিন্তাধারা এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে।নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এই মুক্তি আন্দোলনের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা পুজোয় আসেন। এসেছিলেন শরত্ চন্দ্র বসু,বিধানচন্দ্র রায়।সারা দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে আছে এই বাড়ির সদস্যরা।অনাবাসী হয়ে বাস করা সেইসব মানুষ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুজোর আনন্দের অংশীদার হয়। পুজোয় কোনও রান্না ভোগ ব্যবহার করা হয় না। যেটা ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়, তা সবই কাঁচা।
একসময় পুজো উপলক্ষে জমিদারবাড়িতে নাটকের আসর বসত।তবে এখন পয়সার অভাবে সেসব বন্ধ।তবে বাড়ির সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে পারিবারিক পুর্নমিলনের অনুষ্ঠান জমে ওঠে ।এখন বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তুলতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ঘোষবাড়ির দুর্গাদালান শ্যুটিংয়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বিসর্জন, শঙ্খচিল ,ভূমি কন্যা, কেয়া পাতার নৌকা, ৮ টা ৮ এর বনগাঁ লোকাল। বর্তমানে শুটিং চলছে দয়াময়।এখনও দশমীর দিনে ধুমধাম করে বাড়ির মেয়েরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। দশমীতে নিয়ম নির্ঘণ্ট মেনে বেয়ারাদের কাঁধে চেপে ঠাকুরকে ইছামতীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়।পর্যটকরাও এই দৃষ্টিনন্দন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বেড়াতে এসে পুজো দেখেন।
Free Access






