মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগ, মেদিনীপুর মেডিক্যালে শোকজ ৫ জনকে
অভিযোগে হাসপাতালের পাঁচ কর্মী ও আধিকারিককে শোকজ করল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর
Truth of Bengal: ফের স্যালাইন বিতর্কে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এক রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগে হাসপাতালের পাঁচ কর্মী ও আধিকারিককে শোকজ করল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। তাঁদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শোকজ নোটিস পৌঁছেছে। শোকজ করা হয়েছে হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার, অ্যাডিশনাল সুপার, স্টোর ইনচার্জ, সিস্টার ইনচার্জ এবং সংশ্লিষ্ট এক নার্সকে। স্যালাইনের মেয়াদ যাচাই না করে কীভাবে তা রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হল এবং এই ঘটনায় কার গাফিলতি রয়েছে, তা জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। অভিযোগটি উঠেছে মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা মানসী দে-র চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে। তাঁর পরিবারের দাবি, গত ৫ জুলাই কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা নিয়ে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর স্ট্রোক হয়েছে। এরপরই তাঁকে স্যালাইন দেওয়া শুরু হয়।
রোগীর ছেলের অভিযোগ, শুক্রবার বিকেল থেকে তাঁর মায়ের বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। সেই সময় স্যালাইনের বোতল পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি দেখেন, সেটির মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি হাসপাতালের সুপার-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ সামনে আসতেই তৎপর হয় স্বাস্থ্যদপ্তর। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়। দলের সদস্যেরা হাসপাতালের সুপার এবং মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। রোগীকে দেওয়া স্যালাইনের বোতল, হাসপাতালের স্টোর এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নথিও পরীক্ষা করা হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যদপ্তরে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই পাঁচজনকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
তবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্যালাইন ঘিরে বিতর্ক এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালে পাঁচ প্রসূতিকে ত্রুটিপূর্ণ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় দুই সদ্যোজাতের মৃত্যুকে ঘিরেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও পরবর্তী পরীক্ষার ভিত্তিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট স্যালাইনে কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি। পুরনো বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


