রাজ্যের খবর

চারিপাশে অন্ধকারের মধ্যে আলোর সন্ধান দিচ্ছে চন্দননগর দৈবকপাড়া সর্বজনীন

Jagaddhatri Puja 2023

The Truth of Bengal,Mou Basu: চারিদিকে শুধুই হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, খুন, জখম, রক্তপাত, অশান্তি। চারিদিকে শুধুই অন্ধকার। এরমধ্যে আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি আমাদের আদর্শকে। কে হবে আমাদের আদর্শ? কার কাছে পাব প্রকৃত পথের ঠিকানা? কে দেখাবে আশার আলো? অন্ধকারের উৎস হতেই উৎসারিত সেই আলোর ঠিকানার সন্ধান দিচ্ছে চন্দননগরের দৈবকপাড়া সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি।শারদোত্সব শেষ, কালীপুজো আর ভাইফোঁটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন আকাশে বাতাসে বিষাদের সুর। কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এক উত্সবের বিদায়ই বয়ে আনে পরের উত্সবের আগমন বার্তা। কৃষ্ণনগরের মতো জাঁকজমকপূর্ণভাবে জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য বিখ্যাত চন্দননগর।৫১তম বছরে চন্দননগর দৈবকপাড়া সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির থিম ‘জ্যোতির্ময়ী’। ভাবনা, পরিকল্পনা ও নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী বিমল সামন্ত। প্রতিমা গড়ছেন দীপঙ্কর পাল।

অলঙ্করণের দায়িত্বে রয়েছেন ভোলানাথ দত্ত আর আলোর দায়িত্বে রয়েছেন উজ্জ্বল দাস। শিল্পী বিমল সামন্ত জানান, ‘জ্যোতির্ময়ী মা জগদ্ধাত্রীই আমাদের আলোর পথ দেখান। মণ্ডপে লোহার বেসিক কাঠামোর ওপর পাইন কাঠের ফ্রেম আর কাচের কাজ করা হয়েছে।’কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে সাড়ম্বরে পালিত হয় জগদ্ধাত্রী পুজো।কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন শুরু করেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র। কৃষ্ণচন্দ্রের আমলের বহু আগে অবশ্য বাংলাদেশে জগদ্ধাত্রী পুজোর ব্যবস্থা যে ছিল তা ১৪ শতকে স্মৃতিকার শূলপানির কাল বিবেক গ্রন্থ থেকে জানা যায়। দেবী জগদ্ধাত্রী হলেন সমগ্র জগতের ধাত্রী বা পালনকত্রী। দেবী হলেন সত্ত্বগুণের আধার। ত্রিণয়না দেবী জগদ্ধাত্রী সিংহবাহিনী। দেবীর বাহন সাদা সিংহ, সিংহের পদতলে থাকে একটি কাটা হাতির মাথা। এটি মহাহস্তিরূপী অসুর করীন্দ্রাসুরকে বধের প্রতীক। নানা অলঙ্কারভূষিতা সিংহবাহিনী দেবী জগদ্ধাত্রী গলায় নাগযজ্ঞোপবীত ধারণ করে থাকেন। চর্তুভূজা দেবীর চার হাতে থাকে শাঁখ, ধনুক, চক্র আর বাণ। দেবীর গাত্রবর্ণ নবোদিত সূর্যের মতো।

কাত্যায়ণীতন্ত্রে জগদ্ধাত্রী দেবীর উপত্তি সম্বন্ধে একটি পৌরাণিক কাহিনীর উল্লেখ পাওয়া যায়। কাহিনী অনুসারে, একবার পবনদেব, অগ্নিদেব, বরুণদেব, চন্দ্রদেব প্রভৃতি দেবতারা একসময় নিজেদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলে ভাবতে শুরু করেন। অসুরদের হারানোর পর নিজেদের শক্তি সম্পর্কে অহংকারী হযে ওঠা দেবতারা ভুলে গিয়েছিলেন মহাশক্তিরূপিনী দেবী দুর্গার শক্তিতেই তাঁরা বলীয়ান। দেবী সব জানার পর দেবতাদের গর্ব দূর করার জন্য সচেষ্ট হলেন। তিনি জ্যোর্তিময়ী রূপ নিযে দেবতাদের সামনে হাজির হলেন। কোটি সূর্যের দীপ্তি আর কোটি চন্দ্রের প্রভাযুক্ত তেজরাশি দেখে ভয় পেয়ে গেলেন দেবতারা। দেবী তখন তাঁদের সামনে ছোট্ট ঘাসের ঢুকরো রেখে নড়াতে বলেন। ঘাসের ঢুকরো নড়াতে ব্যর্থ দেবতারা বুঝতে পারলেন যে ওই জ্যোর্তিময়ী মূর্তিই আসলে সব শক্তির আধার। দেবীর করুণাতেই তাঁদের শক্তিলাভ। সব দেবতা তখন দেবীর স্তব শুরু করেন। স্তবে তুষ্ট দেবী জগদ্ধাত্রীরূপে আর্বিভূতা হন।

Free Access

Related Articles