অপরাজিতা ফুল দিয়ে চা বানিয়ে স্বনির্ভরতার পথে সীমান্তের মহিলারা
গোষ্ঠীর সদস্য প্রিয়া মণ্ডল জানান, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তাঁরা অপরাজিতা ফুলের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পারেন।
Truth Of Bengal: মাধব দেবনাথ, নদিয়া: নদিয়ার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চন্দননগর এলএস সমবায় সমিতির অধীনে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অপরাজিতা (নীলকণ্ঠ) ফুল থেকে বিশেষ ধরনের চা তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, নিয়মিত এই চা পান করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। যদিও চিকিৎসক মহলের একাংশ বলছেন, এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়— ওষুধের বিকল্প হিসেবে নয়, সর্বোচ্চ সহায়ক পানীয় হিসেবেই দেখা উচিত।
গোষ্ঠীর সদস্য প্রিয়া মণ্ডল জানান, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তাঁরা অপরাজিতা ফুলের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপরই চন্দননগর এলএস সমবায় সমিতির ম্যানেজার দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনা করে চা তৈরির উদ্যোগ নেন। স্থানীয় মহিলাদের যৌথ প্রয়াসে শুরু হয় উৎপাদন।সমবায় সমিতির সম্পাদক অপূর্ব প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, অল্প পুঁজিতে স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে পেতেই এই উদ্যোগ। ইতিমধ্যে শহর ও গ্রামের কয়েকটি টি-স্টলে এই চায়ের চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। গোষ্ঠীর সদস্য সতীমা রায় জানান, আমাদের তৈরি চা অনেকেই নিয়মিত খাচ্ছেন। অনেকে উপকারের কথা বলছেন, এতে আমরা উৎসাহিত।
অপরাজিতা ফুলে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসহ কিছু উপকারী উপাদান রয়েছে— এমন তথ্য বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ থাকলেও ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময়ের প্রমাণ মেলেনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস রোগীরা চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ ও ডায়েট মেনে চলবেন; নতুন কোনো ভেষজ পানীয় গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের এই উদ্যোগ সীমান্ত এলাকার নারীদের আয়ের নতুন দিশা দেখাচ্ছে। সেইসঙ্গে চা প্রেমীদের জন্য ভিন্ন ধরনের স্বাধ উপভোগের সুযোগ। পাশাপাশি কৃষকদের বাড়তি রোজগারের উপায়।তবে স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত দাবির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যাচাই ও সচেতনতা— দুটোই সমান জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।






