রাজ্যের খবর

নজরে চিকেনস নেক! এবার পৃথক শিলিগুড়ি জেলার দাবি বিজেপি বিধায়কের

‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা মজবুত করতে শিলিগুড়িকে জেলা ঘোষণার আর্জি বিধায়কের

Truth of Bengal: বুধবার উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলার সমস্ত বিজেপি বিধায়ক এবং উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক শেষ হতেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক তথা শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি আনন্দময় বর্মন। উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র শিলিগুড়িকে কেন অবিলম্বে পৃথক জেলা ঘোষণা করা উচিত, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন তিনি।

কেন এই পৃথক জেলার দাবি?

মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিধায়ক আনন্দময় বর্মন সমতলের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চরম প্রশাসনিক ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে শিলিগুড়ি মহকুমার প্রশাসনিক সদর দফতর পাহাড়ি পথ বেয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে দার্জিলিং শহরে অবস্থিত। সমতলের সাধারণ মানুষকে যেকোনও বড় সরকারি বা আইনি কাজের জন্য পাহাড়ি পথ ধরে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় নষ্ট করে দার্জিলিং পৌঁছাতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

অথচ শিলিগুড়ি বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বর্ধিষ্ণু নগরী এবং প্রধান অর্থনৈতিক করিডর। এর ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে রয়েছে নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত। বিধায়কের দাবি, এই স্ট্র্যাটেজিক করিডরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও আঁটসাট করতেই শিলিগুড়িকে পৃথক জেলা করা অত্যন্ত জরুরি।

কেমন হবে প্রস্তাবিত শিলিগুড়ি জেলার পরিধি?

স্মারকলিপিতে বিধায়ক নতুন জেলার যে ভৌগোলিক রূপরেখা দিয়েছেন, তা নিম্নরূপ:

  • শিলিগুড়ি মহকুমার প্রায় ৮০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।

  • জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের অধীনস্থ শিলিগুড়ি পুরনিগমের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ২০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।

  • সামগ্রিকভাবে শিলিগুড়ি মহকুমার শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া এবং জলপাইগুড়ি জেলার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, এই ৪টি মূল বিধানসভা এলাকা নিয়ে নতুন জেলা গঠন করা সম্ভব।

স্মারকলিপি ও দীর্ঘ আলোচনার পর বিধায়ক আনন্দময় বর্মন আশাবাদী সুরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাদের এই পৃথক জেলার দাবির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং এটি প্রশাসনিক স্তরে খতিয়ে দেখার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।” নতুন সরকারের এই পদক্ষেপে শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় খুশির হাওয়া।

Related Articles