রাজ্যের খবর

জিআই স্বীকৃতি পেল বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস, উচ্ছ্বসিত শিল্পী মহল

মল্ল রাজাদের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বিষ্ণুপুর বহু প্রাচীন কুটির ও হস্তশিল্পের জন্য বিখ্যাত।

Truth of Bengal: কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: অবশেষে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই  স্বীকৃতি পেল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী দশাবতার তাস। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই স্বীকৃতি মেলায় খুশির হাওয়া শিল্পী মহলে। শিল্পীদের আশা, এই স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও পরিচিতি পাবে বিষ্ণুপুরের এই প্রাচীন শিল্পধারা।

মল্ল রাজাদের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বিষ্ণুপুর বহু প্রাচীন কুটির ও হস্তশিল্পের জন্য বিখ্যাত। তার মধ্যে অন্যতম দশাবতার তাস। শতাব্দী প্রাচীন এই শিল্পের সঙ্গে এখনও জড়িয়ে রয়েছে বিষ্ণুপুরের শাঁখারিবাজার এলাকার ফৌজদার পরিবার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরাই এই বিশেষ তাস তৈরির ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন।

ইতিহাস বলছে, মুঘল দরবারে প্রচলিত গঞ্জিফা তাসের আদলে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজারা রাজ্যে তাস খেলার প্রচলন করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় তাস তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় মল্ল সেনাপতি ফৌজদার পরিবারকে। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মল্ল রাজাদের আমলে বিষ্ণুর দশটি অবতারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এই অনন্য শিল্পরীতি। বিশেষ অঙ্কনশৈলী অনুসরণ করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রঙের সাহায্যে তৈরি হয় এই তাস। একটি সম্পূর্ণ সেটে থাকে মোট ১২০টি তাস। বিষ্ণুর দশটি অবতার, প্রতিটি অবতারের বাহন, অস্ত্র এবং বিভিন্ন প্রতীককে কেন্দ্র করে সাজানো হয় এই তাসের সেট।

একসময় শুধু রাজপ্রাসাদেই নয়, বিষ্ণুপুরের বহু পরিবারে এই তাস খেলার প্রচলন ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে শিল্পী শীতল ফৌজদার-সহ হাতে গোনা কয়েকজনই এই তাস খেলার নিয়ম জানেন। যদিও খেলার প্রচলন প্রায় হারিয়ে গিয়েছে, তবুও বিষ্ণুপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আজও এই তাসের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। শিল্পীদের মতে, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় এই প্রাচীন শিল্প নতুন করে পরিচিতি পাবে। পাশাপাশি, আগামী প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরার পথও আরও সুগম হবে। জিআই তকমা পাওয়ায় শিল্পী থেকে সাধারণ মানুষ— সকলের মধ্যেই এখন উৎসবের আবহ।

 

Related Articles