রাজ্যের খবর

Bengali Workers: ভাষা নিয়ে বিদ্বেষ, পুলিশের মারধর, মহারাষ্ট্র থেকে বাংলায় ফিরে অভিজ্ঞতা শোনালেন বাবাই সরদার

বাবাইয়ের অভিযোগ, তাঁর কাছে বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও কর্ণপাত করেনি। উপরন্তু তাঁকে না খাইয়ে রাখা হয় এবং বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার ভয় দেখানো হয়।

Truth of Bengal: বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক হেনস্থা ও নিপীড়নের ঘটনায় উত্তাল গোটা বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় সরব হয়েছেন প্রথম দিন থেকেই। রাজ্যজুড়ে ভাষা-আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তিনি শুধু পথে নেমে নয়, সংসদ চত্বরেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা। মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ভাষা-বাঁচাও’ আন্দোলন ইতিমধ্যেই বহু মানুষ ও বিশিষ্টজনের সমর্থন পেয়েছে। তাঁর সক্রিয় হস্তক্ষেপেই ইতিমধ্যে বহু পরিযায়ী শ্রমিককে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের একাংশ ফিরে এসেছেন নিজের ঘরে, ফিরে পেয়েছেন নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদা (Bengali Workers)।

আরও পড়ুনঃ SIR Protest: ফের এসআইআর ইস্যুতে উত্তাল সংসদ, বিক্ষোভ ইন্ডিয়া জোটের

সেই তালিকায় নতুন নাম বাবাই সরদার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা বাবাই মহারাষ্ট্রের নাগপুরে গিয়েছিলেন কাজের সন্ধানে। কিন্তু বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ তাঁকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে আটক করে এক ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানেই শুরু হয় বেধড়ক মারধর। বাবাইয়ের অভিযোগ, তাঁর কাছে বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও কর্ণপাত করেনি। উপরন্তু তাঁকে না খাইয়ে রাখা হয় এবং বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার ভয় দেখানো হয়। তিনি বলেন, “বহু কষ্টে ছাড়া পেয়েছি ক্যাম্প থেকে। মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, পুলিশ যাঁরা আমায় উদ্ধার করেছেন, সকলকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। এবার আর বাইরে যাব না। বাংলাতেই থেকে কাজ করব।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এই খবর পাওয়ার পর থেকেই ভয়ে ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন বাবাইয়ের পরিবারের সদস্যরা। খবর পৌঁছতেই তৎপরতা দেখায় রাজ্য প্রশাসন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের প্রতিনিধি দল ও থানার পুলিশ আধিকারিকেরা নাগপুরে পৌঁছন। বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন তাঁরা (Bengali Workers)।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1ADtx3ZZeU/

মঙ্গলবার বিকেলে বাবাই কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন। সেখান থেকে রাতেই তিনি বিষ্ণুপুরের নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনে এলাকায় স্বস্তির বাতাবরণ। এই ঘটনা শুধু বাবাই নন, বরং বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর ঘটে চলা বিদ্বেষমূলক আচরণের এক ভয়ংকর উদাহরণ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, “বাংলায় কথা বলার জন্য যদি কাউকে বাংলাদেশি বলে অত্যাচার করা হয়, আমি তা সহ্য করব না। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের তরফে আইনগত সবরকম পদক্ষেপ করা হবে (Bengali Workers)।”

 

Related Articles