প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে বাংলা যোগ! বিহার পুলিশের হাতে ধৃত এ রাজ্যের ৩ জন
Bengali addition to the question paper leak case! 3 people from this state were caught by the Bihar police

The Truth Of Bengal: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে এবার নাম জড়াল মধ্যমগ্রাম শহরের। প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে বৃহস্পতিবার বিহার পুলিশ মধ্যমগ্রামের ছাপাখানার মালিক কৌশিক কর কে গ্রেপ্তার করেছে। নিট এর প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে তদন্ত চালিয়ে বিহার পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা জানতে পারে সঞ্জীব মুখিয়া গ্যাংয়ের সঙ্গে যোগ রয়েছে এই রাজ্যের তিন জনের। এরপরেই উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে সুমন বিশ্বাস ও সঞ্জয় দাসকে গ্রেপ্তার করে বিহার পুলিশ।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গানগর এলাকা। এখানেই গত কয়েক বছর ধরে ‘ব্লাসিং সিকিওর প্রেস’ নামে একটি ছাপাখানা চালান কৌশিক কর। মধ্যমগ্রামের দোলতলা মোড় থেকে কিছুটা এগোলেই ডান দিকের একটা সরু গলির শেষে কৌশিক করের ছাপাখানা। নীল রঙের প্রকাণ্ড গেট, ভিতরে চব্বিশ ঘণ্টা নিরাপত্তা রক্ষী থাকেন। মূল গেটের ভিতরে কৌশিক করের ছাপাখানা ছাড়াও আরও কয়েকটি অফিস রয়েছে।নিচতলায় ছাপাখানা, দোতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন কৌশিক। চব্বিশ ঘণ্টাই ছাপাখানার মূল গেট বন্ধ থাকে। কর্মী সহ ছাপাখানার কাজে কেউ আসলেই শুধুমাত্র গেটটা খুলে দেওয়া হয়। ছাপাখানার কাজে কোন গাড়ি আসলেও একই নিয়মে গেট খোলেন রক্ষী। সব মিলিয়ে একটা নিরাপত্তায় মোড়া থাকে কৌশিকের ছাপাখানা। কৌশিকের ছাপাখানায় অন্যান্য জিনিস ছাপার সঙ্গে সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপা হয় বলেই জানা গেছে। গঙ্গানগরের এই ছাপাখানা ছাড়াও কৌশিক করের কলকাতা ভিত্তিক আরও একটি ছাপাখানা আছে বলে জানা গেছে। গঙ্গানগরের এই ছাপাখানা কৌশিকের স্ত্রীও দেখাশুনা করতেন বলে জানা গেছে। কৌশিকের কলকাতা ভিত্তিক ছাপাখানা ‘ক্যালটেক্স মাল্টিভেঞ্চার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে সংস্থাকে বিহার পুলিশের কনেস্টবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মুদ্রণ এবং সরবরাহ করার বরাত দেওয়া হয়েছিল। মুদ্রণ এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে কৌশিক করের গঙ্গনগরের ব্ল্যাসিং সিকিওর প্রেস প্রাইভেট লিমিটেড আউটসোর্স হিসেবে কাজ করেছিল খবর।
নিট এর প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে তদন্ত চালিয়ে ধৃত সঞ্জীব মুখীয়া এবং তাঁর গ্যাংয়ের সঙ্গে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কৌশিক কর এবং সঞ্জয় দাসের নাম জানতে পারে বিহার পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপরেই বিহার পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। কৌশিক করের গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার তাঁর গঙ্গনগরের ছাপাখানায় দিনভর নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কাউকেই গেটের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয় নি। এদিন দুপুরে একবার মধ্যমগ্রাম থানার দুজন পুলিশ গিয়েছিল, তাঁদেরও ঢুকতে দেওয়া হয় নি। জানা গেছে,২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ২০২২ সালে অরুণাচলপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন দ্বারা পরিচালিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কান্ডেও নাম জড়িয়েছিল কৌশিক করের।






