বালুরঘাটে সাইলো গোডাউন বিতর্কে জট কাটল না, প্রশাসনিক বৈঠকেও অনড় জমির মালিকরা
জমির মালিকদের স্পষ্ট দাবি, সাইলো গোডাউনেই তাঁদের কাজ দিতে হবে।
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা, তবু সমাধান অধরাই রইল বালুরঘাটের সাইলো গোডাউন সংক্রান্ত সমস্যার। সোমবার বালুরঘাট থানায় ডিএসপি হেডকোয়ার্টার বিক্রম প্রসাদ এবং বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাসের উপস্থিতিতে সাইলো গোডাউন কর্তৃপক্ষ ও জমির মালিকদের মধ্যে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠক হলেও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো গেল না।
জমির মালিকদের স্পষ্ট দাবি, সাইলো গোডাউনেই তাঁদের কাজ দিতে হবে। বিকল্প হিসেবে তাঁরা বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী জমির মূল্য এবং তার সঙ্গে এককালীন ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চান। তাঁদের অভিযোগ, সাইলো গোডাউন কর্তৃপক্ষ অন্য একটি সংস্থায় কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা মানতে রাজি নন তাঁরা। সাইলো গোডাউনেই চাকরি চান বলে দাবি করেন জমির মালিকরা।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের কাটনা এলাকায় এফসিআই-এর একটি সাইলো গোডাউন নির্মিত হয়েছে। সেই প্রকল্পের জন্য যাঁদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তাঁদের অধিকাংশই আদিবাসী। জমির বিনিময়ে সাইলো গোডাউনে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সাইলো গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা।প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চললেও এখনও পর্যন্ত অচলাবস্থা কাটেনি।
সোমবারের বৈঠকও সেই প্রচেষ্টারই অংশ ছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বৈঠক শেষে জমির মালিক মঙ্গল এক্কা জানান, “সমস্যার সমাধানের আশাতেই আমাদের ডাকা হয়েছিল। সাইলো গোডাউন কর্তৃপক্ষও বৈঠকে ছিলেন। কিন্তু আলোচনা হলেও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্য সংস্থায় কাজ দেওয়ার প্রস্তাব আমরা মানছি না। সাইলো গোডাউনেই চাকরি চাই, নইলে জমির বর্তমান মূল্য হিসেবে এককালীন ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে।”এই অবস্থায় সাইলো গোডাউন ঘিরে চলা আন্দোলন ও প্রশাসনের অস্বস্তি যে আপাতত কাটছে না, তা বলাই বাহুল্য।





