রাজ্যের খবর

বাঘের ঘরে আর থাকবে না মানুষ! বক্সার বুক থেকে চিরতরে মুছে যাচ্ছে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক ‘জয়ন্তী’

বাঘের জন্য খালি হচ্ছে বক্সা, জঙ্গল ছেড়ে ‘বনছায়ায়’ পুনর্বাসন পাচ্ছেন জয়ন্তীর বাসিন্দারা

Truth of Bengal: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের (Buxa Tiger Reserve) পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল প্রশাসন। জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করতে এবার বাঘের ঘর থেকে পুরোপুরি সরে যেতে হচ্ছে মানুষকে। বক্সা অরণ্যের কোর এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক জনপদ ‘জয়ন্তী’ এবার মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার অপেক্ষায়। রাজ্য ও কেন্দ্রের বন মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে জয়ন্তীর বাসিন্দাদের জঙ্গলের বাইরে পুনর্বাসন দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে আলিপুরদুয়ারের কালচিনির ভাটপাড়া চা বাগানের কাছে তৈরি হওয়া নতুন পুনর্বাসন গ্রাম ‘বনছায়া’-র পাশেই জয়ন্তীর মানুষদের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

ভুটিয়া বস্তি, গাঙ্গুটিয়ার পর এবার লক্ষ্য জয়ন্তী

বক্সা জঙ্গলকে সম্পূর্ণভাবে বন্যপ্রাণীদের জন্য নিষ্কণ্টক করতে এর আগেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোর এলাকায় থাকা ‘গাঙ্গুটিয়া’ এবং ‘ভুটিয়া বস্তি’ নামক দুটি বড় বনগ্রামকে আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসন প্যাকেজ হিসেবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ওই দুই গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে নগদ ১৫ লক্ষ টাকা এবং বসবাসের জন্য ৮ ডেসিমেল করে জমি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ভাটপাড়া চা বাগানের কাছে ‘বনছায়ায়’ সেই ২৪২টি পরিবার অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস শুরু করেছে। এবার সেই একই মডেলে কালচিনি ব্লকের রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ ঐতিহাসিক জয়ন্তী বস্তিকেও অরণ্যের বাইরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

কেন স্বেচ্ছায় গ্রাম ছাড়তে রাজি হলেন বাসিন্দারা?

প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় এক বছর আগেই জয়ন্তীর বাসিন্দারা জঙ্গল থেকে স্থানান্তরিত হওয়ার পক্ষে লিখিত সম্মতি দিয়েছিলেন। সেই সময় জয়ন্তীতে মোট ৭১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৯০ জনই পুনর্বাসনের পক্ষে সই করেন। চাকুরির অভাব, অনুন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ভৌগোলিক বিপর্যয়ই এর মূল কারণ।

এই বিষয়ে জয়ন্তী এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য লালন মাহাতো বলেন, “দেখুন, এখানে এখন আর কোনও কাজ নেই। ভাল হাসপাতাল নেই, পর্যটন ব্যবসাতেও মন্দা। তার ওপর বর্ষায় জয়ন্তী নদী যেভাবে জনপদকে গিলে খেতে আসছে, তাতে সরকারি সাহায্য নিয়ে এখান থেকে আমাদের অন্যত্র সরে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সেই কারণেই আমরা সিংহভাগ মানুষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এলাকা জুড়ে পুলিশি নজরদারি, তৎপর বন দফতর

ইতিমধ্যেই নতুন পুনর্বাসন এলাকায় জমি পরিষ্কারের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার (SP) অমিত কুমার সাউ জানিয়েছেন, “গ্রাম সরিয়ে আনার মূল কাজটি প্রশাসনের। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের বনছায়ার নতুন জমির ওপর কড়া নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে।” রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর বক্সায় বাইরে থেকে বাঘ এনে ছাড়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হতেই উত্তরবঙ্গের এই বনাঞ্চলে এখন সাজো সাজো রব।