জয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ভবানীপুরকেই পাখির চোখ করলেন অমিত শাহ
বাংলায় পরিবর্তনের জন্য বিজেপিকে ১৭০টি আসনে জিততেই হবে
Truth Of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির লক্ষ্যমাত্রা বা জয়ের আসন সংখ্যা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন যে বিজেপি এবার ১৭৭টি আসনে জয়লাভ করবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার হাজরার সভা থেকে সেই লক্ষ্যমাত্রা সাতটি কমিয়ে ১৭০ নির্ধারণ করলেন শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর এবং জল্পনা।
শুভেন্দু অধিকারীর ১৭৭ আসনের দাবির প্রেক্ষিত নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের কটাক্ষ ছিল যে নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশমতো চলছে বলেই হয়তো বিরোধী দলনেতা আগেভাগে এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে পারছেন। তবে এদিন অমিত শাহ স্পষ্ট জানান যে বাংলায় পরিবর্তনের জন্য বিজেপিকে ১৭০টি আসনে জিততেই হবে। এর পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত বা শর্টকাট পথের কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন যে গোটা বাংলার পাশাপাশি কেবল ভবানীপুর আসনটিতে তৃণমূলকে পরাজিত করতে পারলেই রাজ্যে প্রকৃত পরিবর্তন নিশ্চিত হবে।
এদিন অমিত শাহের বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারীর দুই কেন্দ্র থেকে লড়াই করার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। শাহ জানান যে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমে কেবল নন্দীগ্রাম থেকেই লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের রণকৌশল অনুযায়ী তাঁকে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে। শাহের দাবি অনুযায়ী মমতার নিজের গড়ে গিয়ে তাঁকে পরাজিত করাই বিজেপির মূল লক্ষ্য। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে এবার ভবানীপুরের পাশাপাশি গোটা বাংলাতেই তৃণমূল পর্যুদস্ত হবে।
শুভেন্দুর ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে শাহের সাতটি আসন কমিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে ভোটের মুখে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা বিজেপির আত্মবিশ্বাসে চির ধরার লক্ষণ হতে পারে। একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোথাবাড়ি কাণ্ড নিয়ে শাহের ইস্তফা দাবি করছেন ঠিক তখনই ভবানীপুর দখলকে পাখির চোখ করে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের লড়াই এখন মূলত ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।






