Sabuj Kali: হুগলী জেলার বৈষ্ণব বাড়িতে পূজিতা মা ‘সবুজকালী’ – কেন এমন বিরল রূপ?
শ্রীকৃষ্ণ কালীর রূপ ধরেন, যা কৃষ্ণকালী নামে পরিচিত, রাধিকার কালী পূজার এই কথা রটে গিয়েছিল
Truth of Bengal: হুগলী জেলার সুপ্রাচীন বর্ধিষ্ণু গ্রাম হরিপাল। এই অঞ্চলে একটি ছোট জনপদ শ্রীপতিপুর পশ্চিম গ্রাম। এই গ্রামের অধিকারী পরিবারে দীর্ঘ ৭৫ বছর যাবৎ পূজিতা মা সবুজকালী। আসুন ৭৫ বছর পিছনে নিয়ে যাই আপনাদের, এই গ্রামেরই এক দরিদ্র গোড়া বৈষ্ণব পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন বটকৃষ্ণ অধিকারী মহাশয়। বৈষ্ণব সুলভ আচরণ ছোট থেকেই জন্ম সূত্রে পেয়েছিলেন অধিকারী মশাই। তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করার পর কিছু বছর ভিন রাজ্যে চাকুরী করেন তিঁনি। তারপর ভাগ্যচক্রে আবারও গ্রামে এসে চাষাবাদ করতে শুরু করেন, সব ঠিকঠাক চলার পর এক প্রকার জোর করেই পরিবার সূত্রে আঙুরবালা দেবীর সাথে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হোন তিনি, কিন্তু সংসারে তাঁর মতি ছিল না। মাঠে ঘাটে শ্মশানে ঘুরে বেড়াতেন, এরকম কিছু বছর চলার পর জানা যায় কোনো এক মাঠে তিনি গরুর খোটা বাঁধছিলেন সেই মুহূর্তে তাঁর পিছন থেকে এক সাদা বস্ত্র পরিহিত সন্ন্যাসী এসে বলেন অমুক স্থানে অমুক সময়ে তোমার দীক্ষা হবে, এর পরের ঘটনা সব টাই গুপ্ত।
তাঁর পর তিনি শ্মশানে সাধনা করতে করতে সিদ্ধি লাভ করে মা কালী ও কৃষ্ণের দর্শন পান। কিন্তু কুলীন বৈষ্ণব পরিবারে জন্ম তাঁর বাড়িতে কেউ তিলক সেবা রাধা গোবিন্দের নাম না করে জল স্পর্শ করেন না, সেই বৈষ্ণব বাড়িতে কালী পুজো তৎকালীন সমাজের মাথারা বললেন নৈব নৈব চ, কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি বাড়িতে কালীর ঘট স্থাপন করলেন।পরে আবারও স্বপ্নদৃষ্ট হোন যে মায়ের মূর্তি প্রতিস্থাপনের, কিন্তু এ কি! এত কালো বা নীল নয়, এত নব দুর্বার ওপর শ্যাম ও শ্যামা এক সাথে, এবং কৃষ্ণ ও কালীর আদেশে বটকৃষ্ণ ঠাকুর রটন্তী কালীপূজার দিন প্রতিষ্ঠা করেন এই সবুজ কালিমাতাকে। এখানে মা পরম বৈষ্ণব …..রটন্তী কালীর পুরান অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকা যখন লীলা করছিলেন সেই খবর গিয়ে পৌছায় রাধিকার স্বামী আয়ন ঘোষের কাছে। রাধিকার স্বামী আয়ন ঘোষ এসে দেখেন রাধিকা কালী পুজো করছেন, প্রেমিকাকে অপমানের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ কালীর রূপ ধরেন, যা কৃষ্ণকালী নামে পরিচিত, রাধিকার কালী পূজার এই কথা রটে গিয়েছিল।
বলে এই তিথিতে কালী পূজাকে রটন্তী কালী পূজা বলা হয়, এখন বটকৃষ্ণ ঠাকুরের সুযোগ্য পুত্র কালিপদ অধিকারী (পণ্ডিত শিবানন্দপুরী) এই পঞ্চমুন্ডীর মন্দিরে সাধনা করেন। আর সারা বছর এই বৈষ্ণব বাড়িতে পূজিতা হোন মা সবুজ কালী।সারা বছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক ছুটে আসেন সবুজ কালী দেখতে। আর এবছর মায়ের ৭৫ তম উৎসব সেই উপলক্ষেই তৈরি হয়েছে নতুন মন্দির যেটি দেখতে ঠিক ছোট্ট কালীঘাট এর মত।উদ্বোধন হবে আসন্ন রটন্তি কালী পূজা তিথিতে। সব মিলিয়ে এখন অধিকারী বাড়ি তে উৎসবের আয়োজন এর ব্যস্ততা চরমে।এখন থেকে শুধু সবুজ কালী ই না সাথে কালীঘাট মন্দির দেখতেও ভিড় জমাবেন ভক্তরা।






