Truth of Bengal: প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এবার রাজ্যের বাকি ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের রণকৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে রবিবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘কো-অর্ডিনেশন’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো এই ১৪২টি আসনে সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। এই বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের আগে থেকে শুরু করে গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো রকম আপস করা হবে না। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অশান্তি রুখতে এবারের নির্বাচনে কমিশন এক অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অলিগলিতে নজরদারি চালাতে এবার বাইক বাহিনীকে নামানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, মোট ১৬০টি মোটরবাইকে চড়ে টহল দেবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। প্রতি বাইকে দুজন করে জওয়ান থাকবেন, যাঁরা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং কোথাও কোনো গোলমাল দেখলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়াতে বুথের পাশাপাশি যাতায়াতের পথেও সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং অন্যান্য বাহিনীর বিন্যাস নিয়েও এদিনের বৈঠকে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়।
রবিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং অফিসার এবং উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (DEO) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন কমিশনের স্পেশাল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত এবং স্পেশাল পুলিশ অবজারভার এন কে মিশ্র। অন্যদিকে, সশরীরে ময়দানে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। এদিন তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে পৌঁছে এসডিও অফিসে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কমিশনের এই সক্রিয়তা দ্বিতীয় দফার আগে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল।


