মেঘেদের ঘর আর নীল হ্রদের মায়া! উত্তরবঙ্গের ‘নোকদারা’ কি আপনার পরবর্তী গন্তব্য?
নোকদারা কথাটি এসেছে লেপচা শব্দ "Nok Hlo" থেকে। নোক মানে কালো, মেঘলা বা ঠান্ডা।
Truth of Bengal: স্বর্গ যদি কোথাও থাকে তবে তা এখানেই। উত্তরবঙ্গর কালিম্পং জেলার ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ নোকদারায় আসলে আপনার একথাই মনে হবে। নোকদারাকে এক কথায় বলা যায় মর্ত্যর স্বর্গ। ঈশ্বর যেন অতি যত্ন করে নোকাদারার প্রকৃতিকে সাজিয়েছেন। নির্জন প্রকৃতির সান্নিধ্যে দুদণ্ড শান্তিতে কাটাতে চাইলে আপনার গন্তব্য হতে পারে নোকদারা। পাহাড়ের কোলে নীল আকাশের নীচে সবুজ গালিচায় মোড়া চা বাগান, পাইন বনের সারি, মেঘেদের আনাগোনা, সব মিলিয়ে নোকদারা যেন জীবন্ত ক্যানভাস। নোকদারা কথাটি এসেছে লেপচা শব্দ “Nok Hlo” থেকে। নোক মানে কালো, মেঘলা বা ঠান্ডা। লো মানে পাহাড়। স্থানীয় নেপালি সম্প্রদায়ের মানুষজন পাহাড়কে বলেন দারা। সেখান থেকে এসেছে নোকদারা শব্দটি।
শান্ত নোকদারা হ্রদের জন্য পর্যটন কেন্দ্রর পরিচিতি। পাহাড়ের কোলে শান্ত হ্রদের জলে নৌকাবিহার করার অভিজ্ঞতা আপনাকে মুগ্ধ করবে। কালিম্পং টাউন থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে লাভার কাছে অবস্থিত নোকদারায় পাহাড়ের ধাপে ধাপে বাগান ও কৃত্রিম জলাধার তৈরি হয়েছে। লাভা, লোলেগাঁও ও কাফেরগাঁওয়ের মাঝে অবস্থিত নোকদারার প্রধান আকর্ষণ হল নিস্তব্ধ কোলাহলমুক্ত পরিবেশ। আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়কে ভালো ভাবে দেখা যায় যা এক বাড়তি পাওনা। স্থানীয় লেপচা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। নজরে পড়বে পাহাড়ের কোলে ধাপ চাষ ও বাড়ির সামনে ফুলের বাগান। নানান প্রজাতির হিমালয়ের পাখিদের দেখা মেলে নোকদারায় আসলে। লাভা, রিশপ, লোলেগাঁও ঘুরে আসা যায় নোকদারা থেকে।
কোথায় থাকবেন এবং কীভাবে যাবেন
থাকার জন্য রয়েছে হোম স্টে। শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে নোকদারার দূরত্ব প্রায় ৮৫-৯০ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে গোরুবাথান হয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় নোকদারা। আবার কালিম্পং থেকেও গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যাওয়া যায়।






