যোগরাজের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, বুন্দক নিয়ে গিয়েছিলাম কপিলের বাড়ি
Yogaraj's explosive confession, took the gun to Kapil's house
Truth Of Bengal : খবরটা শুনলে অনেকেই হয়তো ঘাবড়ে যাবেন। এ আবার কি বল-ছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের বাবা যোগরাজ সিং। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের কাছে একপ্রকার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিই করেছেন যোগরাজ। তিনি বলেছেন, প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিলদেবের বাড়িতে বন্দুক নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। এটা সহজেই অনুমেয় বন্দুক নিয়ে কপিলের বাড়িতে হাজির হওয়ার কারণটা উদ্দেশ্যটা কি ছিল। তবে কেন তিনি এমন করেছিলেন, সেই কারণটাও খোলসা করতে ভোলেননি যোগরাজ।
এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘কপিল সেই সময় জাতীয় দলের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল এবং হরিয়ানার অধিনায়ক। সেই সময়ই তিনি আমাকে দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন। যা আমার সহ্য হয়নি। আর এই কারণেই আমি বন্দুক নিয়ে কপিলের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলাম।’
এখানেই থেমে থাকেন না যোগরাজ। তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী অর্থ্যাৎ যুবরাজের মা চেয়েছিলেন আমাকে কি কারণে বাদ দেওয়া হল তার কারণ যাতে আমি কপিলের কাছে জিজ্ঞেস করি। কিন্তু আমি একদম ঠিকই করে নিয়েছিলাম যে কপিলকে উচিত শিক্ষাই দিতে হবে। এবং আমি সেইমত পিস্তল নিয়ে ওঁর সেক্টর-৯-র বাড়িতেও পৌঁছে গিয়ে অনেকবার গালাগালি করেছি। বলেছি, তুমি আমার সঙ্গে যা করেছ, এটা অত্যন্ত অন্যায়। এর প্রতিদান তোমাকে দিতে হবে। আমি কপিলকে এও বলেছি, যে তোমার মাথায় আমি গুলি চালাতে চাই। কিন্তু তোমার মা-র জন্য আমি এইকাজ করতে চাইছি না। কারণ তোমার একজন ধার্মিক মানুষ। তিনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। সেই কারণেই আমি শবনমকে নিয়ে চলে এসেছিলাম কপিলের বাড়ি থেকে।’
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের বাবা যোগরাজ সিং আরও অভিযোগ করেন যে, ‘আমার ক্রিকেটজীবন শেষ করার পিছনে শুধু কপিলদেবই নন, বিষাণ সিং বেদিও সমান দায়ী। কেননা, তাঁদের দুজনের রাজনীতির কারণেই আমাকে ক্রিকেট ছাড়তে হয়েছিল। এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ক্রিকেটকে বিদায় জানাবার। এবং যুবিকে দিয়েই আমি আমার অপূর্ণ স্বপ্নকে সফল করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভগবানকে কৃতজ্ঞতা জানাই ভগবান আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।’
কপিল দেবের পাশাপাশি, বিষাণ সিং বেদীকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে যোগরাজ সিং বলেন, ‘বেদীও আমার বিপক্ষে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। আমি তাঁকে ক্ষমা করিনি। ফল কি হল সবাই দেখলেন। বেদী বিছানায় শয্যাশায়ী হয়েই পরলোকে গমন করলেন। যখন আমাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি দলের অন্যতম নির্বাচক রবীন্দ্র চাড্ডাকে আমাকে বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেদীই তোমাকে দলে চায়নি। সেই কারণে তোমার দলে সুযোগ হয়নি। কেননা বেদী ও কপিলের ধারণা ছিল যেহেতু আমার সঙ্গে সুনীল গাভাসকরের সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল, এবং আমি মুম্বইতে ক্রিকেট খেলার সুবাদে ওঁদের ধারণা ছিল আমি সুনীলের খুব কাছের লোক।’
সবশেষে যোগরাজ আরও বলেন, ‘২০১১ সালে ভারত বিশ্বকাপ জয় করে। আমার ছেলে যুবরাজ সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিল। গোটা দেশ যখন এই সাফল্যে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়ছে, ঠিক সেই সময় দেশের একজন চাননি যে ভারত ফের বিশ্বকাপ জয় করুক, তিনি হলেন কপিলদেব। আর সেই কারণেই নিজের চোখের জল ফেলেছিলেন কপিল।’
এঁদের পাশাপাশি যোগরাজের হিটলিস্টে রয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিও। ক্যান্সারকে জয় করে যখন যুবরাজ ফের জাতীয় দলে নিজের পুরনো ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সেই সময় তাঁকে ঠিকভাবে সহযোগিতা করেননি অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। এবং যুবির তাড়াতাড়ি অবসরের পিছনে ধোনিকেই দায়ী করে কাঠগড়ায় তুললেন যোগরাজ।






