খেলা

বিশ্বকাপের আগে “ভিসা যুদ্ধ”, ৪২ ক্রিকেটারের সহায়তায় আসরে নামল আইসিসি

আগামী সপ্তাহের শুরুতেই অধিকাংশ ক্রিকেটার ভিসা পেয়ে যাবেন বলে আশাবাদী আইসিসি।

Truth Of Bengal: হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু টি-২০ বিশ্বকাপ। তার আগেই ভিসা সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পাক-বংশোদ্ভূত একাধিক ক্রিকেটার ভারতের ভিসা পেতে সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই তোলপাড় ক্রিকেট মহল। পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হয়েছে জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি।এ বারের বিশ্বকাপে মোট ৪২ জন পাক-বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার অংশ নিতে চলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ, রেহান আহমেদ ও সাকিব মাহমুদ, আমেরিকার আলি খান ও শায়ান জাহাঙ্গির, নেদারল্যান্ডসের জ়ুলফিকর সাকিব-সহ একাধিক পরিচিত নাম।

পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাংলাদেশ, কানাডা, ইতালি, ওমান, নেপাল এবং জিম্বাবোয়ের মতো দেশেও পাক-বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার রয়েছেন।জানা গিয়েছে, ক্রিকেটারদের ভিসা প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও রকম জটিলতা না তৈরি হয়, তা খতিয়ে দেখছে আইসিসি। ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ, রেহান আহমেদ ও সাকিব মাহমুদ ভিসা পেয়ে গিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটার ও কানাডার সাপোর্ট স্টাফ শাহ সালিম জাফরের ভিসা সমস্যাও মিটেছে। বাকিদের ক্ষেত্রেও দ্রুত ভিসা মঞ্জুরির চেষ্টা চলছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই অধিকাংশ ক্রিকেটার ভিসা পেয়ে যাবেন বলে আশাবাদী আইসিসি।

ভিসা জটের মূল কারণ ভারতের ভিসা নীতি। নিয়ম অনুযায়ী, যাঁদের জন্ম পাকিস্তানে, তাঁরা বর্তমানে যে দেশের নাগরিকই হন না কেন, ভিসার আবেদনের সময় পাকিস্তানের পরিচয় উল্লেখ করতে হয় এবং জন্মসূত্রে পাকিস্তানের পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়। ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে থাকায় এই ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। এই ইস্যুতে সম্প্রতি বিতর্কে জড়ান মার্কিন ক্রিকেটার আলি খান। তিনি দাবি করেন, তাঁকে এবং তাঁর আরও চার সতীর্থকে বিশ্বকাপের জন্য ভারতের ভিসা দেওয়া হয়নি। যদিও পরে মার্কিন ক্রিকেট সংস্থা স্পষ্ট করে জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আবেদন খারিজ হয়নি। ভিসা প্রক্রিয়া এখনও চলছে এবং পাক-বংশোদ্ভূত হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে মাত্র।

 

উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে সিকন্দর ও সাকিব জুলফিকর এবং ২০২৩ সালে শিরাজ আহমেদ ভারতে খেলতে আসার ভিসা পাননি। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার উসমান খোয়াজা এবং ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের রেহান আহমেদ ও শোয়েব বশিরের ক্ষেত্রেও ভিসা জট তৈরি হয়েছিল।এ বার যাতে সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে দিকেই কড়া নজর রেখেছে আইসিসি। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দেশের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কারণে যাতে কোনও ক্রিকেটারের বিশ্বকাপ খেলা আটকে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

Related Articles