খেলা

Syed Mushtaq Ali Trophy: আড়ালে থেকেও কিংমেকার মাহি! ঝাড়খণ্ডের ট্রফি জয়ের পর সামনে এল ধোনির ‘গোপন’ স্ট্র্যাটেজি

কোচিং স্টাফ নিয়োগ থেকে শুরু করে কোন ক্রিকেটারদের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া দরকার—সব ক্ষেত্রেই ধোনির পরামর্শে এগিয়েছে ঝাড়খণ্ড রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন।

Truth of Bengal: সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ইতিহাসে এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঝাড়খণ্ড। ফাইনালে হরিয়ানাকে হারিয়ে ট্রফি জিতে নিয়েছে তারা। ঈশান কিশনের শতরানে ভর করেই এল এই ঐতিহাসিক সাফল্য। তবে ঝাড়খণ্ডের এই সাফল্যের নেপথ্যে শুধু ঈশান কিশন বা কুমার কুশাগ্রের মতো তারকা ক্রিকেটাররাই নন, বরং আড়াল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বরাবরই লাইমলাইট এড়িয়ে চলেন। কিন্তু ঝাড়খণ্ড ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর যোগ আজও অটুট। কোচিং স্টাফ নিয়োগ থেকে শুরু করে কোন ক্রিকেটারদের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া দরকার—সব ক্ষেত্রেই ধোনির পরামর্শে এগিয়েছে ঝাড়খণ্ড রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। রাজ্যের দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার শাহবাজ় নাদিম ও সৌরভ তিওয়ারি যথাক্রমে যুগ্ম সচিব ও সচিব হওয়ার পর থেকেই ঝাড়খণ্ড ক্রিকেটে নতুন গতি এসেছে।

ধোনির পরামর্শেই সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে রতন কুমারকে। তিনি গত আট বছর ধরে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের কোচিং করাচ্ছিলেন। পাশাপাশি বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সানি গুপ্তা। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগেই ধোনির মতামত ছিল বলে জানিয়েছেন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার কর্তা শাহবাজ নাদিম।এক সাক্ষাৎকারে নাদিম বলেন,মরশুম শুরু করার আগেই কোচিং স্টাফ নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রায় সব বিষয়ে আমরা ধোনির পরামর্শ নিয়েছি। ঝাড়খণ্ড দলের প্রতি ওর আলাদা আগ্রহ রয়েছে। ও চায় রাজ্য দল সব প্রতিযোগিতায় ভালো খেলুক। এত বড় একজন ক্রিকেটার আমাদের দলের দিকে নজর রাখছেন, এটা ভাবতেই ভালো লাগে।নাদিম আরও জানান, ধোনি ঝাড়খণ্ডের প্রতিটি ম্যাচ খুব কাছ থেকে অনুসরণ করেন। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই দলের পারফরম্যান্সের উপর নজর রেখেছিলেন তিনি। ক্রিকেটারদের শক্তি ও দুর্বলতা লিখে রেখে তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করেছেন। ঝাড়খণ্ডের হয়ে যাঁরা খেলেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিসংখ্যান তাঁর নখদর্পণে।

এর সুফলও মিলেছে মাঠে। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ১১টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় পেয়েছে ঝাড়খণ্ড। গ্রুপে দিল্লি, তামিলনাড়ু, কর্নাটকের মতো শক্তিশালী দল থাকলেও শীর্ষে থেকেই নকআউটে উঠেছিল তারা। অধিনায়ক ঈশান কিশন ১০ ইনিংসে ৫১৭ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে আবার জাতীয় দলেও ডাক পেয়েছেন তিনি।সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির পর বিজয় হাজারে ট্রফিতেও নজর কাড়ছে ঝাড়খণ্ড। প্রথম ম্যাচে জয় না পেলেও দুরন্ত সেঞ্চুরি করেছেন ঈশান কিশন। পাশাপাশি কুমার কুশাগ্র, বিরাট সিংয়ের মতো তরুণ ক্রিকেটাররাও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করছেন।৪১ বছর বয়সেও ক্রিকেট ছাড়েননি মহেন্দ্র সিং ধোনি। আসন্ন আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলবেন তিনি। তার জন্য নিয়মিত অনুশীলন করছেন ঝাড়খণ্ড রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে। পাশাপাশি রাজ্যের তরুণ ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মাহি।

Related Articles