ঘানাকে বিদায় দিয়ে শেষ দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে কলম্বিয়া! বাজিমাত জন অ্যারিয়াসের
রাউন্ড অফ ৩২-র শেষ ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে হারাল লাতিন আমেরিকার দলটি
Truth of Bengal: কলম্বিয়া ১
গোল: অ্যারিয়াস
ঘানা ০
বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে শেষ দল হিসেবে জায়গা করে নিল কলম্বিয়া। রাউন্ড অফ ৩২-র শেষ ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে হারাল লাতিন আমেরিকার দলটি। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জন অ্যারিয়াস। শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে ঘানাকে চাপে রাখে কলম্বিয়া। শেষ পর্যন্ত সেই এক গোলই তাদের তুলে দিল রাউন্ড অফ ১৬-তে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে আফ্রিকার মোট ন’টি দেশ জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু মিশর ও মরক্কো ছাড়া আর কোনও আফ্রিকান দল রাউন্ড অফ ১৬-তে উঠতে পারল না। শেষ ম্যাচে ঘানাকে ঘিরে আশা ছিল আফ্রিকার ফুটবলপ্রেমীদের। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হল তারা। ম্যাচের কোনও সময়ই ঘানাকে দেখে জয়ের দাবিদার মনে হয়নি। প্রথম থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কলম্বিয়ার হাতে। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে তারা বারবার ঘানার রক্ষণে চাপ তৈরি করে। ঘানার খেলায় পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট ছিল। কলম্বিয়ার ডিফেন্স ভাঙার জন্য তেমন কোনও কার্যকর বিকল্প কৌশলও দেখা যায়নি তাদের খেলায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলতে থাকে কলম্বিয়া। তবে ৮ মিনিটেই ধাক্কা খায় তারা। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কলম্বিয়ার স্ট্রাইকার জন কর্দোবাকে। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন আর এক স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ়। তবে কর্দোবার চোট কলম্বিয়ার আক্রমণাত্মক ছন্দে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। ১৩ মিনিটে ঘানার সমস্যাও বাড়ে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার মারভিন সেনায়া। তাঁর উঠে যাওয়ায় ঘানার রক্ষণ আরও চাপে পড়ে। ম্যাচের প্রথম ভাগে দু’দলের ফুটবলাররাই শরীরী ফুটবল খেলতে থাকায় বারবার ফাউল হচ্ছিল। ফলে রেফারিকে একাধিকবার খেলা থামাতে হয়।
সেনায়ার চোটের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই গোল খেয়ে বসে ঘানা। ১৪ মিনিটে প্রায় একক দক্ষতায় দুরন্ত গোল করে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন জন অ্যারিয়াস। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ঘানার রক্ষণ ভেঙে গোল করেন কলম্বিয়ার উইঙ্গার। পিছিয়ে পড়ার পর ঘানা আরও রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। তারা কৌশল বদলে প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। ২০ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগও এসেছিল ঘানার সামনে। কিন্তু আক্রমণভাগের ফুটবলাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এর পরই প্রতি-আক্রমণে উঠে ফের গোলের সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ২১ মিনিটে লুইস দিয়াজ়ের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স জিগি। তাঁর এই সেভ ঘানাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া। ৩৯ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লুইস দিয়াজ়। ৪২ মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন লুইস সুয়ারেজ়ও। সংযুক্ত সময়েও কলম্বিয়ার আক্রমণ রুখে দেন ঘানার গোলরক্ষক জিগি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানেই।
দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে আগ্রাসী ফুটবল শুরু করে কলম্বিয়া। জয় নিশ্চিত করতে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা। কিন্তু কখনও ঘানার ডিফেন্ডাররা, কখনও গোলরক্ষক জিগি কলম্বিয়ার আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন। ৫৭ মিনিটে লুইস দিয়াজ় বল জালে জড়ালেও গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের জন্য। সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও বিতর্ক তৈরি হয়নি। কলম্বিয়ার চাপের মাঝেও প্রতি-আক্রমণ থেকে ৬৯ মিনিটে বড় সুযোগ পায় ঘানা। ভাল জায়গায় বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট মারেন থমাস পার্তে। শেষ দিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ঘানা। একাধিকবার কলম্বিয়ার বক্সে চাপ তৈরি করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি তারা। আক্রমণভাগের ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত ঘানার বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ম্যাচের শুরুতে পাওয়া অ্যারিয়াসের গোল ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে কলম্বিয়া। এই জয়ের ফলে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল তারা। আর ঘানার বিদায়ের সঙ্গে আফ্রিকার আর এক সম্ভাবনাময় দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল।






