নতুন বছরের শুরুতেই টি-২০ বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার
দলে বিশেষ কোনও চমক না থাকলেও চোটে থাকা তিন ক্রিকেটার—প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজলউড ও টিম ডেভিডকে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে।
Truth Of Bengal: নতুন বছরের প্রথম দিনেই টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য প্রাথমিক ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার দল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি। ভারতের ও শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে স্পিন ও পেসের ভারসাম্য বজায় রেখে দল গড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দলে বিশেষ কোনও চমক না থাকলেও চোটে থাকা তিন ক্রিকেটার—প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজলউড ও টিম ডেভিডকে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আশা, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
অ্যাশেজ সিরিজে চোটের কারণে নিয়মিত খেলতে পারেননি প্যাট কামিন্স। অ্যাডিলেডে একটি টেস্ট খেললেও পরের ম্যাচগুলোতে মাঠে নামেননি তিনি। চলতি মাসের শেষে তাঁর হ্যামস্ট্রিংয়ের ফের স্ক্যান হবে। একই ভাবে ভারতের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩১ অক্টোবর দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচের পর চোট পেয়ে আর মাঠে নামেননি জস হ্যাজলউড। বিগ ব্যাশ লিগ খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছেন টিম ডেভিডও। তা সত্ত্বেও তিনজনকেই দলে রেখেছে অজি নির্বাচকরা।২০২১ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ সেরা মিচেল মার্শের নেতৃত্বেই বিশ্বকাপে নামবে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে তিনিই অজি টি-২০ দলের অধিনায়ক। দলে রয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ট্রাভিস হেড, মার্কাস স্টোইনিস, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যাডাম জাম্পা ও জস ইংলিসের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা।
তবে এবারের দল তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। মিচেল স্টার্ক অবসর নেওয়ায় পেস আক্রমণে বাঁহাতি পেসারের অভাব স্পষ্ট। কামিন্স ও হ্যাজলউড ছাড়া জোরে বোলিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন নাথান এলিস ও জেভিয়ার বার্টলেট। স্পিন বিভাগে মূল ভরসা অ্যাডাম জাম্পা। তাঁর সঙ্গে আছেন ম্যাট কুনেম্যান ও কুপার কনোলি। পার্টটাইম স্পিনার হিসেবে থাকবেন ম্যাক্সওয়েল।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, দলে একমাত্র উইকেটকিপার হিসেবে রাখা হয়েছে জস ইংলিসকে। কোনও ব্যাক-আপ কিপার রাখা হয়নি। ব্যাটিং বিভাগেও বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মূলত মার্শ, ম্যাক্সওয়েল, গ্রিন ও টিম ডেভিডেরই।
প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি বলেছেন,গত কয়েক বছর ধরে আমাদের টি-২০ দল ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার পরিবেশের কথা মাথায় রেখে দলে বৈচিত্র আনা হয়েছে। কামিন্স, হ্যাজলউড ও ডেভিড ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। বিশ্বকাপে ওদের পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তবে এটি প্রাথমিক দল, পরিবর্তন হতেই পারে।
প্রসঙ্গত, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া তাদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়, যেখানে স্পিন সহায়ক উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে মার্শ-নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া।এরই মধ্যে একদিন আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান। রশিদ খানের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে ফিরেছেন ফজলহক ফারুখি ও গুলবাদিন নইব। রহস্য স্পিনার আল্লাহ গজনফর জায়গা পেয়েছেন রিজার্ভ দলে। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ওঠা আফগানিস্তান এবারও শক্তিশালী দল হিসেবেই নামছে।টি-২০ বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান—দুই দলের দল নির্বাচনই যে টুর্নামেন্টে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করছে, তা বলাই বাহুল্য।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দল: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জাভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, প্যাট কামিন্স, টিম ডেভিড, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিস (উইকেটরক্ষক), ম্যাথু কুনেম্যান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু শর্ট, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জাম্পা।
আফগানিস্তান বিশ্বকাপ দল: রশিদ খান (অধিনায়ক), ইব্রাহিম জাদরান (সহ-অধিনায়ক), রহমানুল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), মহাম্মদ ইসহাক (উইকেটরক্ষক), সেদিকুল্লা অটল, দরবেশ রাসুলি, শহীদুল্লাহ কামাল, আজমতুল্লা ওমরজাই, গুলবদিন নাইব, মহাম্মদ নবি, নূর আহমেদ, মুজিব উর রহমান, নবীন-উল হক, ফজলুল হক, ফজলক ফারুকি।






