প্রাক্তনীর তালিকায় রয়েছে বিদেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, কালিম্পংয়ের ঐতিহ্য ডক্টর গ্রাহামস হোমস স্কুল
The alumni list includes heads of state from foreign countries, a tradition of Kalimpong Dr. Graham's Homes School
Truth Of Bengal: উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ কালিম্পং শুধু অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর জন্যই বিখ্যাত নয়। পাহাড়ি জনপদ কালিম্পংয়ে রয়েছে নানান ঐতিহাসিক সৌধ, মিশনারি স্কুলও। একসময় কালিম্পংয়ে ছিল ভুটানের গভর্নরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কালিম্পংয়ে ১৪০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে শতবর্ষ পেরোনো প্রাচীন মিশনারি স্কুল ডক্টর গ্রাহামস হোমস স্কুল। এই সুপ্রসিদ্ধ প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীর তালিকায় নাম রয়েছে বিদেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরও।
১৮৮৯ সালে স্কটল্যান্ড থেকে ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ইয়ং মেনস গিল্ড অফ স্কটল্যান্ডের সদস্য হিসাবে পা রাখেন জন অ্যান্ডারসন গ্রাহাম নামে এক স্কটিশ মিশনারি। কালিম্পংয়ে আসার কয়েক বছরের মধ্যে তিনি নানান সমাজ সংস্কারের কাজ করেন। ভারতীয় শিশুরা কোন কোন সমস্যায় পড়েছে আর আর্থিক সঙ্কট দূর করা কীভাবে সম্ভব এনিয়ে তিনি সেবামূলক কাজ করেন। সে সময় কালিম্পং ছিল দার্জিলিং পাহাড়ের কোলে ছোট্ট নিরিবিলি শান্ত গ্রাম। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর প্রেমে পড়ে অনাথ, গরিব শিশুদের জন্য এখানে স্কুল গড়ার পরিকল্পনা করেন।
১৯০০ সালে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান অনাথ শিশুদের জন্য বাড়ি ভাড়া করে অনাথ আশ্রম খোলেন। নাম রাখা হয় সেন্ট অ্যান্ড্রুজ কলোনিয়াল হোম। এরপর জমি কিনে ছোট্ট অনাথ আশ্রমকে পুরোদস্তুর আবাসিক স্কুল হিসাবে গড়ে তোলেন ডক্টর গ্রাহাম। ১৯৪২ সালে তিনি প্রয়াত হন। ১৯৪৭ সালে স্কুলটি তাঁর নামে ডক্টর গ্রাহামস হোমস নামে নামাঙ্কিত করা হয়। আজ গোটা দেশের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম কালিম্পংয়ের এই স্কুল। ১৪০ একর জমির ওপর নির্মিত এই প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আজ ৫৬টি বিল্ডিং রয়েছে। প্রায় ১২০০ পড়ুয়া পড়াশোনা করে। ১৪টি কটেজ রয়েছে পড়ুয়াদের থাকার জন্য। কোএড স্কুলে ছেলে ও মেয়েরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে। শুধু পড়াশোনা নয় প্র্যাক্টিক্যাল লার্নিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। এই স্কুলের নিজস্ব পোলট্রি ফার্ম, কৃষি খামার, বেকারি, জেনারেল স্টোর এমনকি হাসপাতালও রয়েছে।
গোটা দেশে ১৬০টি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান স্কুল রয়েছে। অল ইন্ডিয়া অ্যাংলো ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া ঐতিহাসিক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান হল অফ ফেম পুরস্কার পেয়েছে কালিম্পংয়ের এই স্কুল। এই স্কুলের প্রাক্তনী হলেন ভুটানের প্রাইম মিনিস্টার শেরিং তোবগে, প্রাক্তন প্রাইম মিনিস্টার লিয়নচেন জিগমে ইয়সের থিনলে। বিশ্ববিখ্যাত শিল্পী নরম্যান হাচিনসন প্রমুখ। পড়ুয়ারা অংশ নেয় বিতর্ক সভা, ক্যুইজ, নাটক, সাঁতার, ভলিবল, বাস্কেটবলের মতো খেলাধুলো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও। স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে ক্যাথরিন গ্রাহাম মেমোরিয়াল চ্যাপেল। স্ত্রী ক্যাথরিনের নামে ১৯২৫ সালে সুদৃশ্য গির্জা গড়েন জন গ্রাহাম। এই স্কুলে অ্যাংলো ইন্ডিয়ানরা ছাড়াও ভারতীয় ও তিব্বতি শরণার্থীরাও পড়াশোনা করে।






